শুক্রবার , ২৩শে এপ্রিল, ২০২১ , ১০ই বৈশাখ, ১৪২৮ , ১০ই রমজান, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > সমঝোতাই একমাত্র পথ: মওদুদ

সমঝোতাই একমাত্র পথ: মওদুদ

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
শনিবার সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ।

বিএনপির দাবি উপেক্ষা করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চাইলে গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে বলেও ক্ষমতাসীনদের সতর্ক করেন তিনি।

মওদুদ বলেন, “আমরা সরকারকে বলছি, বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোট বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বচনে অংশ নেবে না।

“তা যদি করার চেষ্টা হয়, সেক্ষেত্রে সরকারের যে কোন নির্বচনী কৌশল সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়ে যাবে। সে অবস্থায় গণতন্ত্র ব্যাহত হবে, সরকারকেই তার দায় নিতে হবে।”

তিনি বলেন, “সরকার যদি সমঝোতার পথ ছেড়ে সংঘাতের পথ বেছে নেয়, তাহলে বিএনপি ও তার জোট কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বচন করার জন্য সরকারকে বাধ্য করবে এবং সেক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের পরিণতি হবে আরো করুণ।”

মওদুদ বলেন, গাজীপুরসহ পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের কাছে এখন দুটি পথ খোলা, একটি সমঝোতা আর একটি হল সংঘাত।

“চূড়ান্ত সংঘাত এড়ানোর জন্য আমরা এখনো আশা করি, এই সংসদ ভেঙে দেয়ার আগেই সরকার একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ নেবে এবং আমরা সেই ব্যাপারে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব।”

সমঝোতার জন্য সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার আহ্বান তুলে ধরে বিএনপি নেতা বলেন, “সরকারি দলের তরফে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি। বরং তার জবাবে একই দিনে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ছিল অনেক নিম্নমানের এবং নেতিবাচক।”

সংবাদ সম্মেলনে সদ্য সমাপ্ত বাজেট অধিবেশন নিয়ে বিরোধী দলের মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান হুইপ শহীদ উদ্দীন চৌধুরি এ্যানি, সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার, জাফরুল ইসলামসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ জুলাই বিএনপির অনুপস্থিতিতে সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হলেও শুরু থেকে প্রায় সব দিনই বিরোধী দল এতে অংশ নিয়েছিল।

মওদুদ বলেন, ‘প্রতিকূল’ অবস্থায় বাজেট অধিবেশনে অংশ নিয়ে সংসদ কার্যকরে তারা ‘দায়িত্বশীল’ ভূমিকা নিয়েছেন।

“সরকারি দল ও স্পিকারের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পেলে আমরা আরো বেশি সফল হতে পারতাম।”

মওদুদ বলেন, “যখনি আমরা পয়েন্ট অব অর্ডারে কোনো সমস্যা বা প্রশ্ন উত্থাপন করেছি, তখন সরকারি দলের তরফ থেকে একজন নয়, দুই-তিনজন সংসদ সদস্য মূল প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে অনেক অবান্তর, অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য রেখেছেন।

“শুধু তাই নয় প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা আমাদের চরিত্র হনন করে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন। জাতীয় ইস্যুর ক্ষেত্রে তারা অনেক সময় সত্য কথা শুধু গোপনই করেননি, বরং ডাহা মিথ্যা কথা বলেছেন।”

মূলতবি প্রস্তাব থেকে বিএনপিকে ‘বঞ্চিত’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

“আমরা যেটা প্রত্যাহার করেছি, সেটা নিয়ে আলোচনার কথা বলেছে সরকারি দল।”

গত ১৫ জুন বিরোধী দলের ৬৮টি প্রস্তাব নাকচ করেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে আলোচনার জন্য মূলতবি প্রস্তাব দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয় বিএনপি।

দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, রেলওয়ের ঘুষ, হল-মার্ক কাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংসদে সরকার তরফ থেকে কোনো ‘উত্তর’ পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন মওদুদ।

সংসদে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ‘ডাহা মিথ্যা’ কথা বলেছেনও বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

>