সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > জাতীয় > সরকারের শেষ সময়ে বেপরোয়া পেশাদার অপরাধীরা

সরকারের শেষ সময়ে বেপরোয়া পেশাদার অপরাধীরা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকারের শেষ সময়ে এসে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পেশাদার খুনি, ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীরা। রাজধানীতে একের পর এক ঘটে চলেছে হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর মামলা হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে এসব অপরাধী। কোনো একটি ঘটনার পর কয়েকদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তা নিয়ে তৎপর হলেও তারপর তা হারিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা, জনাকীর্ণ মার্কেটের সামনে ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে প্রতিপক্ষকে হত্যা, ঘরে ঢুকে গুলি করে খুনসহ প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে হত্যা, মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে পালিয়ে যাওয়া ও চেতনানাশক দিয়ে খুনের ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি রাজধানীতে এরকম বেশকিছু ঘটনায় জনমনে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর চানখাঁরপুলে একটি মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয় ৭ ছাত্র। গত ১ সেপ্টেম্বর উত্তর যাত্রাবাড়ীর কলাপট্টি এলাকায় ১০তলা গার্মেন্টেস সংলগ্ন একটি বাড়ির সীমানা প্রাচীরের ভেতরে পরিত্যক্ত ড্রাম থেকে রাব্বি নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কেউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

গত ৩১ আগস্ট সকালে মিরপুরে শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ঢাকা মহানগর যুবলীগের ৯২ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শাহ আলী রকিকে। পাঁচ অস্ত্রধারী যুবক তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি ৯২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গিয়াস ও মনিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একইদিন রাত ৯টার দিকে নটরডেম কলেজের সামনে পুলিশ চেক পোস্টের সামনে পোল্যান্ড প্রবাসী সাব্বির আহম্মেদ শ্যামলকে গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাত মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক। এর একদিন আগে ৩০ আগস্ট রাজধানীর চকবাজারে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে মারা যায় মো. দুলাল নামে এক যুবক। কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা এখনো জানতে পারেনি পুলিশ। ওই দিনই রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে আবদুল মান্নান নামে এক যুবকের জবাই করা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গত ২৯ আগস্ট নিজ বাসায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হন সিআইডির সাবেক এএসপি ফজলুল করিম খান। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এরই মধ্যে ডিবি পুলিশ স্থানীয় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। একইদিন ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মাটিকাটা বাজারের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ওই দিনই উত্তর বাড্ডা বাজারের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় ৪০ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তির লাশ। পুলিশ ধারণা করছে তিনি অজ্ঞান পার্টি খপ্পরে পড়েছিলেন। তাকে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছিল।

এদিকে গত রমজান মাসে রাজধানীর গুলশানে ফিল্মি স্টাইলে গুলি করে যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক মিল্কিকে হত্যা করে আরেক যুবলীগ নেতা এসএম জাহিদ সিদ্দিকী তারেক। জনাকীর্ণ একটি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকণ্ডের ঘটনাটি ধরা পড়ে মার্কেটের সিসি ক্যামেরায়। পরে ঘটনার পর গ্রেফতারকৃত তারেকের বাহিনীর সঙ্গে র‌্যাবের ‘বন্দুক’ যুদ্ধে তিনি মারা যান। তবে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অন্যতম আসামি মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপু, যুবলীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন চঞ্চল ও ওয়াহিদুল ইসলাম আরিফকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে এআইজি (মিডিয়া) জালাল উদ্দিন আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, দেড় কোটির মানুষের এই শহরে এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনায় আতঙ্কগ্রস্ত হওয়ার কিছু নেই। পুলিশ সব সময় অপরাধীদের ধরতে তৎপর রয়েছে। তবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্বের যে কোনো সময়ের তুলনায় ভালো উল্লেখ করে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ও মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম মানবকণ্ঠকে বলেন, অপরাধী যেই হোক না কেন তাদের বিষয়ে পুলিশ জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছে। তাদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সবসময়ই তৎপর রয়েছে।

>