মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > তথ্যপ্রযুক্তি > সাইবার ঝুঁকিতে আছে পৃথিবীর ১২.৫ ভাগ মোবাইল সিম!

সাইবার ঝুঁকিতে আছে পৃথিবীর ১২.৫ ভাগ মোবাইল সিম!

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ জাতিসংঘ সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, পৃথিবীর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ মোবাইল সিম কার্ড হ্যাকিং ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৬০০ কোটি সেলফোন চালু রয়েছে বলে জানায় আইটিইউ। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কোটি মোবাইলই হ্যাকিং ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন সংস্থাটির প্রধান তোউরে। তবে এ হামলা এড়ানো ও এর থেকে বাঁচার উপায় উদ্ভাবনের জন্য তার সংস্থা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও নিশ্চিত করেন তোরে। এ হামলার চরম দিক হল হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে সিম কার্ড কোন করা। একজন হ্যাকার এ কাজ করতে সম হলে তা হবে খুবই ভয়াবহ একটি ব্যাপার। কেননা এর মাধ্যমে একজন প্রকৃত মোবাইল ব্যবহারকারীর মতো করেই হ্যাকার এ সিমকে ব্যবহার করতে পারবে। আইটিইউয়ের এ গবেষণা বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি টেলিযোগাযোগ কো¤পানিগুলোর ওপরও পরিচালিত হয়। প্রায় ২০০টিরও অধিক দেশে এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণার ফল থেকে দেখা যায়, মোবাইল অপারেটরগুলোর অধিকাংশই এ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন জিএসএমএ এ গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে ও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে তারা। সংগঠনটির অন্তর্ভুক্ত মোবাইল অপারেটরের সংখ্যা প্রায় ৮০০। এ অপারেটররা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জিএসএমএর মুখপাত্র কেয়ার ক্রান্টন জানান, সংস্থাটি এরই মধ্যে তার সদস্যদের এর থেকে রা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সিম কার্ড তৈরিতেও শীর্ষ কো¤পানি জেমেল্টো এনভি। চিপনির্ভর সিম কার্ডে হ্যাকিংয়ের ঘটনাকে তাদের ব্যবসার প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। কো¤পানিটির মুখপাত্র নিকোলে স্মিথ বলেন, গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুরতি সেবা দেয়াই তার কো¤পানির ল্য। এ ল্য পূরণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার ব্যবস্থা করেছে তার কো¤পানি। মোবাইল সিম কার্ড হ্যাকারদের কাছে সবসময়ই একটি আকাক্সিত বস্তু ছিল। কেননা এ ছোট্ট বস্তুটির মধ্যে গ্রাহকদের স¤পর্কে বেশ অনেক তথ্য থাকে। মোবাইল অপারেটররা তাদের গ্রাহকদের তথ্য সংরণ করতে ও নেটওয়ার্কের মধ্যে রাখতে সিম কার্ড ব্যবহার করে থাকে। সিম কার্ডে এখন যে প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে, তা অনেক পুরনো। ডিইএস প্রযুক্তির এ সিম কার্ডগুলো তাই হ্যাকারদের কাছে সহজেই ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। মোবাইল সিম কার্ড হ্যাকিং হওয়ার গবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষক দলের প্রধান কার্স্টেন নল সম্প্রতি এ তথ্য জানান। নল আরও জানান, বিশ্বে প্রায় ১২ দশমিক ৫ শতাংশ সিম কার্ড এর ফলে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি। কেননা সিম কার্ড হ্যাকিংয়ের মাত্র একটি পদ্ধতি সম্পর্কেই তারা জানতে পেরেছেন। বিভিন্ন কো¤পানি এ স¤পর্কে গবেষণা চালালে আরও অনেক নতুন নতুন পদ্ধতি জানতে পাওয়া যাবে; যার থেকে এ ঝুঁকির পরিমাণও বাড়বে বলে মনে করেন নল। ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক¤িপউটারের বিভিন্ন তথ্য চুরির পর এবার হ্যাকাররা গ্রাহকদের সেলফোনের সিম কার্ডের দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের বিভিন্ন ¯পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেয়ার পাশাপাশি এসব সিম কার্ডের কোনও তৈরি করছে তারা। এর ফলে গ্রাহকের অজান্তেই তার সিম কার্ডটি ব্যবহার হতে পারে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে।
জার্মান কম্পিউটার নিরাপত্তা কোম্পানি জেমালটো এনভি জানায়, সিম কার্ডের কোন করছে সন্ত্রাসীরা। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। সম্প্রতি লাসভেগাসের ব্লাক হ্যাট হ্যাকিং সম্মেলনে এ দাবি করে তারা। বার্লিনভিত্তিক কো¤পানিটির এ দাবির পর বিষয়টি নিয়ে আরও অনেক গবেষণা করে জাতিসংঘ। গবেষণার পর জাতিসংঘের জেনেভাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) বিষয়টিকে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করে। আইটিইউয়ের মহাসচিব হামাদান তোউরে জানান, তারা এ হুমকির উল্লেখযোগ্য প্রমাণ পেয়েছেন। এ বিষয়ে অচিরেই গ্রাহকদের জন্য ও বিভিন্ন দেশের জন্য মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে জানান তিনি।

>