সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > তথ্যপ্রযুক্তি > সাইবার যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রাখবে স্নোডেনের তথ্য ফাঁস

সাইবার যুদ্ধ থামাতে ভূমিকা রাখবে স্নোডেনের তথ্য ফাঁস

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ স্নোডেনের তথ্য ফাঁসের ফলে বিভিন্ন জাতির মধ্যে বিদ্যমান সাইবার যুদ্ধে বিরতি আসবে। সোমবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) প্রধান হামাদান তোউরে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

ফোনকল ও ই-মেইলে ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির (এনএসএ) আড়ি পাতার তথ্য সম্প্রতি ফাঁস করে দেন সংস্থাটির সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক এডওয়ার্ড স্নোডেন। এর পর থেকে এটি নিয়ে খুবই বিব্রতকর অবস্থায় আছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রায় প্রতিদিনই উন্মোচিত হচ্ছে বিভিন্ন দেশের ইন্টারনেট গুপ্তচরবৃত্তির বিভিন্ন তথ্য। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য এখনই শ্রেষ্ঠ সময় বলে মনে করেন আইটিইউর প্রধান তোউরে। সাইবার জগতে শান্তি-শৃঙ্খলা রার পদ্ধতি প্রণয়নে ইন্টারপোল ও জাতিসংঘ মাদক-সন্ত্রাস দমন কার্যালয়ের সঙ্গে কাজ করছে সংস্থাটি।

গত মাসে গার্ডিয়ান পত্রিকায় এনএসএর গুপ্তচরবৃত্তির তথ্য প্রকাশের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে বিশ্বজুড়ে। ইন্টারনেটে এ ব্যাপক হারে নজরদারিকে অনেকে মানবাধিকারবিরোধী বলেও উল্লেখ করেন। কিন্তু অনেক কূটনৈতিকই মনে করেন, ইন্টারনেটে এ নজরদারিব্যবস্থা বর্তমানে একটি ওপেন সিক্রেট ব্যাপার।

বর্তমানে প্রায় সব দেশের গোয়েন্দা সংস্থাই এটি করছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও এর ব্যতিক্রম নয় বলে জানান তোউরে। রয়টার্সকে দেয়া এক সাাত্কারে জাতিসংঘের এ কর্মকর্তা জানান, প্রিজম প্রকল্প নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্বেগ দেখে তিনি বিস্মিত। কারণ ইউরোপের অধিকাংশ দেশই একই ধরনের কাজ করে থাকে। এ সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য এখনই শ্রেষ্ঠ সময় বলে উল্লেখ করেন এ কর্মকর্তা। তার মতে, বিবদমান দেশগুলোর উচিত সমস্যাটি নিয়ে এখনই আলোচনায় বসা। একই সঙ্গে প্রতিটি দেশেরই উচিত তার নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রার পাশাপাশি নিজ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে দেশগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কখনই প্রথমে আক্রমণ করছে না।

আইটিইউর প্রধান কর্মকর্তা আরো জানান, বর্তমান সমস্যাটি এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক রূপ নিয়েছে। তবে এজন্য শুধু একটি বা দুটি রাষ্ট্রকে দায়ী করার পপাতী নন তিনি। স্নোডেনের তথ্য ফাঁসের আগ পর্যন্ত যেকোনো সাইবার হামলার জন্য রাশিয়া ও চীনকে দায়ী করে আসছে অন্য দেশগুলো। স্নোডেনের স্বীকারোক্তির পর বিষয়টি এখন ঘুরে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। কিন্তু বিশ্ববাসীকে আরো বাস্তববাদী হওয়ার পরামর্শ দেন তোউরে। কেননা বর্তমান সময়ে প্রায় সব দেশই এ একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

প্রায় সব দেশের সরকারপ্রধানই এ ধরনের কাজের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে আসছে। তোউরের মতে, বর্তমান সময়ে এরই মধ্যে একটি সাইবার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। তিনি সাইবার গুপ্তচরবৃত্তিকে সাইবার হামলারই একটি ধরন বলেও উল্লেখ করেন।

তার এ কথার মাধ্যমে তিনি কাউকে আঘাত করতে চান না বলেও জানান। কিন্তু এ ধরনের হামলা চলতে থাকলে এর থেকে দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট হবে বলে মনে করেন তোউরে। ফলে বড় ধরনের সংঘাতের সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা তারা।

বর্তমান সময়ের ঘটনাগুলোর দ্রুততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। কেননা এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা সংগঠনকে এর জন্য দোষারোপ করা যাচ্ছে না। এমনকি তারা কোনো সূত্রও রেখে যাচ্ছে না।

এ সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি সব রাষ্ট্রকে একটি একক চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আহ্বান জানান।

>