সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > সাক্ষ্য দিতে ফেলানীর বাবা-মামা ভারতের পথে

সাক্ষ্য দিতে ফেলানীর বাবা-মামা ভারতের পথে

শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম ॥ সীমান্তের আলোচিত হত্যাকাণ্ড কুড়িগ্রামের ফেলানীর হত্যাকারী বিএসএফ সদস্যদের ফাঁসির দাবি নিয়ে মামলায় সাক্ষ্য দিতে এবং শুনানিতে অংশ নিতে ফেলানীর বাবাসহ চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভারতের পথে রওয়ানা হয়েছেন।

এরা হলেন- ফেলানির বাবা নুরুল ইসলাম, মামা আব্দুল হানিফ, কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন, বিজিবির ৪৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ।

রোববার সকাল ৯টায় তারা কুড়িগ্রামের ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে বুড়িমারী চেকপোস্টের উদ্দেশে রওয়না হয়েছেন।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার দিকে বিএসএফের একটি প্রতিনিধি দল তাদের ভারতে অভ্যর্থনা জানানোর কথা রয়েছে।

ভারতে রওয়ানা হওয়ার আগে সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফেলানীর বাবা ও বিজিবির অধিনায়ক এবং আইনজীবী এ নৃংশসতম হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আইনি লড়াইয়ের অংশ নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

গত ১৩ আগস্ট থেকে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফেলানীর বাবাসহ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা সোমবার থেকে মামলার শুনানিতে অংশ নেবেন।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার চোখের সামনে ওরা মেয়েডারে গুলি কইরা মারছে। আমি স্বাক্ষী দিবার জন্যি ভারতে যাইতাছি, সুষ্ঠু বিচার পাওনের আশায়।’

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের সংকল্প নিয়ে বলেন, এ ধরনের হত্যাকান্ডের বিচারে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে দু’দেশের সীমান্তরক্ষীরা আর গুলির চিন্তা করবেনা। দোষীদের শাস্তি হলে দু’দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় তা মাইল ফলক হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ফেলানীকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তা ছিল মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। এ হত্যাকান্ড গণতন্ত্র ও মানবাধিকারে ভারতের জন্য কলঙ্ক লোপন করেছে। আসামিদের সর্বোচ শাস্তি হলে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ভারতের কলঙ্কমোচন হবে।’

কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ বলেন, ‘ফেলানীর বাবা এবং মামা কোচবিহারে বিএসএফের ১৮১ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স এর বিশেষ আদালতে সোমবার (১৯ আগস্ট) সাক্ষ্য দেবেন। সীমান্তে এই নৃংশসতম হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির নিশ্চিতের জন্য আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভোরে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্তে বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী ভারত থেকে বাবার সঙ্গে বাংলাদেশে আসার সময় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন। তার লাশ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা। এ নির্মম হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ দায়ী সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ আড়াই বছর পর বিচার কার্য শুরু হয়েছে সেই মামলার।

>