মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > খেলা > সাবেরকে চাইছেন নাজমুল!

সাবেরকে চাইছেন নাজমুল!

শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক ॥ বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাবের হোসেন চৌধুরীর ভূমিকা সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেন। তার ব্যতিক্রম করলেন না বিসিবি’র নয়া সভাপতি নাজমুল হাসানও। গতকাল তিনি আম্পায়ার ও স্কোরার এসোসিয়েশনের ওয়েবসাইট উদ্বোধণ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সাবের হোসেন চৌধুরীর মতো মানুষ ক্রিকেটে খুব বেশি প্রয়োজন। বোর্ডের সভাপতি হিসেবে তিনি এলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক সমস্যারই সমাধান হবে।’ তবে অল্পদিন আগেই লর্ডসের আইসিসির সভা থেকে ফিরে নির্বাচন নিয়ে সাবের হোসেন চৌধুরীর এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াতে নাজমুল হাসান বলেছিলেন, ‘আমি বুঝতে পারি না তিনি কিছু দিন পর পর এমন ফালতু কথা কেন বলেন! এই সবই ফালতু কথা। তারা কেন এমন করছেন? তিনি কি ভাবছেন ফিক্সিং নিয়ে বাংলাদেশের এখন কি অবস্থা?’ আর ৮ দিন পরেই তার কথা ভিন্নসুর।
অনেকের ধারণা সাবের হোসেন চৌধুরীকে ক্রিকেটে স্বাগত জানানোর পিছনের কারণটা তার কৌশলগতই। ধারণা করা হয় এনএসসি দ্বারা সংশোধিত গঠনতন্ত্র নিয়ে যে মামলা সেটা একজন সাবেক বোর্ড সভাপতির ইশারাতেই করা হয়েছিল। আর তাই সাবের হোসেন চৌধুরী ক্রিকেট বোর্ডে নির্বাচন করতে এলে গঠনতন্ত্র নিয়ে সমস্যার সমাধানটা হয়তো দ্রুতই হবে। ওদিকে বিসিবি’র নির্বাচন ইলেকশন না সিলেকশনে হবে? এ বিষয়ে নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করতে গিয়ে নাজমুল হাসান বলেন, ‘ইলেকশনই হবে। আমি সিলেকশনে বিশ্বাসী না। অনেকে অনেক কথা বলে। বিসিবি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে আসবেন, এটা আজকের কথা নয়। দশ বারো বছর ধরে শুনছি। বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের মুখে শুনেছি, বিসিবি প্রেসিডেন্টের নির্বাচিত হয়ে আসার ব্যাপারে তারা প্রস্তাব এনেছেন। কিন্তু কাজটা তো করেন না। আমি কাজটা অন্তত করে দিয়ে যেতে চাই। কে প্রেসিডেন্ট হবেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কাজটা গুরুত্বপূর্ণ। এখন এটা না করলে আর কখনোই হবে না।’
অন্যদিকে তিনি বিসিবি’র নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিসিবির প্রেসিডেন্ট হবো, এমন কোন চিন্তা আমার মাথায় কখনোই ছিল না; এটা আমি আগেও বলেছি। কারো কাছে এটা আমি বলিও নাই, চিন্তাও করি নাই। এই দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত যে সিস্টেম, তাতে প্রধানমন্ত্রীই এটা নিয়োগ করেন। সেভাবেই আমি এসেছি। আমি শুনেছি, সাবের ভাই ইলেকশন করবেন; এটা তো খুব ভালো কথা। আমি নির্বাচন করবো কিনা, সেটা এখনই বলতে পারছি না। কারণ, একটা জিনিস আছে, যেহেতু সরকার… মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন, তাই আমি হঠাৎ করে ওনাকে না বলে সরে যেতে পারবো না। আমি না থাকতে চাইলেও ওনাকে বলতে হবে আমার। সাবের ভাই আসছেন… যদি ইলেকশন করেন, আমি খুব খুশি হবো। আমি মনে করি, অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে উনি নির্বাচন করলে।
সিলেটের ফাডলাইট ধার করা হবে
সিলেট স্টেডিয়াম নিয়ে এখনও নাজমুল হাসান পাপনের শঙ্কা কাটেনি। তার ধারণা সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারলে শেষ মুহূর্তেও যে কোন ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন ‘আমি সিলেটে যেটা দেখে এসেছি, আমার ধারণার কথাটাই আমি বলছি। এই অল্প সময়ের মধ্যে যে কাজ হয়েছে, সেটা প্রশংসার দাবিদার। এখন বাকি আছে মিডিয়া সেন্টার; এটা এক মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে বলেই আমার ধারণা। আইসিসি’র দল আগস্টে যখন আসবে, এটাকে প্রায় শেষ অবস্থায় পাবে ধারণা করি। কিন্তু ওখানে একটা গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড আছে তার ওপরে আইসিসি’র জন্য ৫০০ আসনের হসপিটালিটি বক্স। ওখানে আমি যেটা দেখে এসেছি, কথা বলে যেটা বুঝেছি, দোতলা পর্যন্ত এর মধ্যে শেষ হয়ে যাবে; ওটা তো চারতলার প্ল্যান। দোতলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই-এর মধ্যে হয়ে যাবে। এই গতিতে যদি চলে, তাহলে আমার ধারণা সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখের মধ্যে হ্যান্ডওভার করার মতো অবস্থায় চলে যাবো।
এছাড়া, ফাড লাইট সময় মতো আসবে কিনা সেই শঙ্কা কেটে গেছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আমি চিন্তিত ছিলাম ফাড লাইটের সমস্যা নিয়ে আমাকে বলা হয়েছিল, আগের বার নাকি সবচেয়ে তাড়াহুড়ো করেও ছয় মাস লেগেছিল। ফাড লাইটের কাজ দুটো অংশে হয়। একটা হচ্ছে ফাউন্ডেশন। এটা আসতে দু’মাস লাগে। এরপরও নাকি বাকি অংশটা হতে আরও মিনিমাম দু’মাস। তাহলে তো আমাদের হচ্ছে না। ওখানে বসেই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাদের যে খুলনা-রাজশাহী-বগুড়া; ওখান থেকে খুলে এনে এখানে লাগিয়ে ফেলা যাবে। আজকে আমাকে নিশ্চিত করেছে, এটা দেড় মাসের মধ্যে এনে লাগানো সম্ভব। আমি আশা করি, ওনারা (এনএসসি) এটা করতে পারবে। একটা ব্যাপার নিশ্চিত, এই গতিতে কাজ এগোলে ৭ তারিখের পরিদর্শনে তাদের সন্তুষ্ট করতে পারবো।
‘ডালমিয়ার বক্তব্যে দোষের কিছু দেখি না’
জুন মাসে আইসিসি’র যে পরিদর্শন ছিল, সেখানে কিছু নেগেটিভ অবজারভেশনও ছিল। মে মাসে তারা বলেছিল, ডিসেম্বরের আগে কাজ শেষ হবে না। জুন মাসে তারা বলছে, সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ শেষ হবে কিনা। ফলে কিছু সংশয় যখন ছিল, তখন অলটারনেট ভেন্যু হিসেবে অনেক প্রস্তাব ছিল। দণি আফ্রিকার নাম পত্র-পত্রিকাতেই দেখেছি, ভারত পাশের দেশ, তারাও বিবেচনায় থাকতে পারে। ডালমিয়া যেটা বলতে চেয়েছেন, আমি যা বুঝেছি, ওনারা আমাদের কোন সমস্যা হলে সহায়তা করতে চান। তাতে আমি দোষের কিছু দেখি না। তবে আমি প্রোঅ্যাক্টিভলি বলছি, বিশ্বকাপ আমরা এখানেই আয়োজন করতে পারবো।

>