শনিবার , ২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ , ৯ই মাঘ, ১৪২৭ , ৯ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২

হোম > রাজনীতি > সীমান্ত হত্যা বন্ধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ: মোস্তফা

সীমান্ত হত্যা বন্ধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ: মোস্তফা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারার পেছনে সরকারের কূটনৈতিক দুর্বলতা অনেকটা দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। এ বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশকে সীমান্ত হত্যা বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একেবারে গোড়া থেকে কাজ শুরু করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা শূন্যতে আনা এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই সম্মত হয়েছে কয়েক বছর আগে। এরপরও সেটা বন্ধ হয়নি। বরং বেড়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে বিএসএফ আত্মরক্ষার জন্য হত্যা করে। কিন্তু, বাস্তবতা তা প্রমাণ করে না।’

ফেলানী হত্যা দিবস উপলক্ষে তিনি বলেন, ‘ফেলানী হত্যার ফলে বাংলাদেশে এবং ভারতেরও বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয় ফেলানীর ঝুলন্ত দেহের ছবি। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ও ন্যায় বিচারের দাবি থাকলেও সে বিচার আজও সমাপ্ত হয়নি। ফেলানীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশও আমলে নেয়া হয়নি। যা অত্যান্ত দুঃখজনক।’

ন্যাপ মহাসচিব বলেন, ‘ভালো প্রতিবেশি দেশ সীমান্তে চলাচলকারীদের সঙ্গে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আচরণ করে। ভারত সরকারের এটা নিশ্চিত করা উচিত যে, তার সীমান্তরক্ষী বাহিনী মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাচ্ছে এবং আইনের শাসন অনুসরণ করছে। বিএসএফ এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে জাতিসংঘের সাধারণ নীতিমালা মেনে চলার জন্য প্রকাশ্যে আদেশ দেয়া উচিত। বিএসএফের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত তার সদস্যদের বিচার করতে পারেনি। ভারত সরকার বেসামরিক কর্তৃপক্ষকে নির্যাতনের মামলাগুলো তদন্তের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর উচিত একটি নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের জন্য দাবি তোলা। সেখানে এ জাতীয় ঘটনার জন্য ভারত ও বাংলাদেশ উভয়েই অভিযোগ জমা দিতে পারবে। প্রয়োজনীয় প্রমাণও জমা দেবে উভয়পক্ষ। এই কমিশনটি হবে স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ। বছরের পর বছর ধরে সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অর্থবহ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চাপ বাড়িয়ে বাংলাদেশ সরকারকে একটি কঠিন পরিস্থিতিতে নিয়ে এসেছে। এ ধরনের ঘটনায় সঠিক সিদ্ধান্তে আসার জন্য এখনই নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকদের পদক্ষেপ নেয়ার সময়।’

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, যুগ্ম মহাসচিব মো. নুরুল আমান চৌধুরী, শান্তা আক্তার, এহসানুল হক জসীম, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মো. কামাল ভুইয়া, মো. শহীদুননবী ডাবলু, মতিয়ারা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম, উপ-সম্পাদক মো. শামিম ভুইয়া, সাদিয়া ইসলাম ইমন প্রমুখ।

>