শনিবার , ২৮শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৩ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১২ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > সেক্সের দৃশ্যে অভিনয় করা নিয়ে প্রতিক্রিয়া

সেক্সের দৃশ্যে অভিনয় করা নিয়ে প্রতিক্রিয়া

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ সিনেমায় সেক্সের দৃশ্য নিয়ে গণমাধ্যমের উত্তেজনার শেষ নেই। কোন কোন পত্রিকা আবার সেক্স দৃশ্যকে অশালীন বলে লড়াইয়েও নামে। অনেক দর্শকই মনে একটি প্রশ্ন লালন করেন, আহারে সেক্সের দৃশ্যে অভিনয় করা না জানি কত রোমাঞ্চকর। কিন্তু ‘ব্লু ইস দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার’ সিনেমার অভিনেত্রীর বললেন, সেক্সের দৃশ্যে অভিনয় করা বিরক্তিকর, একঘেয়ে আর সাদামাঠা।

ব্লু ইজ দ্য ওয়ার্মেস্ট কালার সিনেমায় ১০ মিনিটের সমকামী সেক্সের দৃশ্য দৃশ্যায়ন করা হয়। ওই সিনেমার অভিনেত্রী বলেন, দশদিনেরও বেশি সময় ধরে একদল সিনেমা ক্রুয়ের সামনে সেক্সের দৃশ্যে অভিনয় করলে আনন্দ পাওয়ার কিছু থাকে না। এত পরিশ্রম করে ওই দৃশ্য আবার পিতামাতার সামনে দেখা একেবারে হাঙ্গামার ব্যাপার।

ইউরোপ ও হলিউডের সিনেমানির্মাতারা যৌনতাকে সিনেমায় শিল্পীত ও রোমাঞ্চকরভাবে উপস্থাপন করতে চান। সন্দেহ নেই, সিনেমার দর্শকেরাও যৌনতার শিল্পীত উপস্থাপন দেখতে চান। কিন্তু সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মতামত একেবারেই আলাদা। দর্শকেরা হয়তো রোমাঞ্চ অনুভব করেন কিন্তু অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাছে গল্পের দাবি অনুযায়ী কান্না করা যেমন অনুভূতিহীন সাজানো প্রকাশ তেমনি সেক্সও। সেক্সের দৃশ্যে একজন শ্রমিকের মতো পরিশ্রম করা ছাড়া কোন যৌনানুভূতিই পাওয়ার থাকে না তাদের।

সত্তরের দশক থেকেই পশ্চিমা চলচ্চিত্রনির্মাতারা বাস্তব জীবনের নির্মম উপস্থাপন আর উত্তেজক যৌনতার সংমিশ্রণ ঘটাতে চাইছেন। পশ্চিমা নির্মাতা পল স্ক্র্যাডার তার সদ্য নির্মিত সিনেমা দ্য ক্যানিয়নে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমি মনে করি না এই ধরণের সংমিশ্রণ সম্ভব। যৌন দৃশ্যে দর্শকদের মস্তিষ্কের যে অংশটি উদ্দীপ্ত হয় তা স্বাভাবিক ক্রিয়াকালাপের অংশ থেকে আলাদা। তাই জীবনের গল্প দেখে দর্শকের মস্তিষ্কের একটি অংশ উদ্দীপ্ত হয় আর যৌন উত্তেজক দৃশ্যে অন্য অংশ। আমি মনে করি না এক চলচ্চিত্রে এই দুটো একই সাথে সম্ভব।

পল স্ক্রোডার আরো বলেন, যৌন উত্তেজক সিনেমাগুলোর গল্পগুলো নির্মাণ করা হয় কিশোরসুলভ মানসিকতা থেকে। গল্পের প্লট এমনভাবে সাজান হয় যে এতে বাস্তবতার ছাপ রাখা একেবারেই অসম্ভব। বাস্তবতার ছাপ রাখলে যৌন উত্তেজক চলচ্চিত্র হবে না। আবার যৌন উত্তেজক চলচ্চিত্র বানাতে চাইলে বাস্তবতার ছাপ থাকে না। এই কারণেই সিরিয়াস টাইপের চলচ্চিত্রগুলোতে যৌনতার দৃশ্যগুলো খাপ ছাড়া লাগে।

লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস সিনেমার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এই যৌন উত্তেজক চলচ্চিত্রগুলোতে অভিনয় করতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যার শিকার হন অভিনেত্রীরা। লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন পেরিস সিনেমায় অভিনয়ের পর ওই অভিনেত্রীর জীবনটাই বদলে যায়। এ সম্পর্কে বার্নার্ড বার্তোলুচি বলেন, আমি মারিয়ার (লাস্টো ট্যাঙ্গো ইন প্যারিসের অভিনেত্রী) তারুণ্য ডাকাতি করেছি। লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস সিনেমায় যৌন দৃশ্য ধারণের সময় কিছু ক্ষেত্রে অভিনেত্রীকে আগে থেকে বলা হয়নি যে কী ধরণের ভূমিকায় অভিনেত্রীকে অভিনয় করতে হবে।

‘লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস’ ছাড়াও ‘নাইন সঙ্গস’, ‘ইন্টিমেসি’, ডোন্ট লুক নাও’, ‘ওয়াইল্ড সাইড’ নামের সিনেমাগুলোতে যৌন দৃশ্যগুলোকে অনেক সহজ ও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু অভিনেত্রীদের তাদের সহঅভিনেতা আর পরিচালকের ওপর আস্থা রাখা ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।

কখনও কখনও অভিনেতা-অভিনেত্রীদের আপত্তির কারণে অনেক সিনেমার যৌনতার দৃশ্যগুলো বাতিল করতে হয়। কিন্তু ওই দৃশ্যগুলো বাতিল করলে সিনেমা তার আসল চরিত্র হারিয়ে ফেলে বলেই মনে করেন পরিচালক ও দর্শকরা।

>