শুক্রবার , ২৭শে নভেম্বর, ২০২০ , ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১১ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > শীর্ষ খবর > সৌদি বিধিনিষেধে শঙ্কায় বাংলাদেশি হজযাত্রীরা

সৌদি বিধিনিষেধে শঙ্কায় বাংলাদেশি হজযাত্রীরা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার  ॥ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় মার্স (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪৫ জনের মৃত্যুর পর দেশটির সরকার হজযাত্রীদের জন্য কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এতে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক হজযাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।

বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মার্স করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সৌদি সরকার বৃদ্ধ, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও শিশু এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতায় যারা ভুগছেন, তাদের এ বছর হজ পালন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ধর্মসচিব কাজী হাবিবুল আওয়াল বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি সরকার বাংলাদেশ সরকারকে কোনো চিঠি দেয়নি। চিঠি হাতে পাওয়ার পর তারা এ নিয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। পত্র-পত্রিকায় তারা দেখেছেন সৌদি সরকার হজযাত্রীদের জন্য কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

এ দিকে জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিস ধর্ম মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি নিয়ে সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি ইকবাল বাহার জানান, বাংলাদেশ থেকে যারা হজ করতে যান, তাদের ৬০ ভাগ বৃদ্ধ এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এর ফলে সৌদি সরকারের অবস্থান নিয়ে তারা চিন্তিত। তিনি জানিয়েছেন, জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ অফিস থেকে কয়েক দিন আগে তাদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু হজযাত্রীরা সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন আরো আগে। তারা টাকা-পয়সা জমা দিয়েছেন, সৌদি আরবে বাড়িভাড়াও করা হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রায় ৮৯ হাজার হজযাত্রী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়লেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মার্স করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৮৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ৪৫ জন। সৌদি আরবে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। আরো ব্যাপকভাবে যেন রোগটি ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কিছু পরামর্শ দিয়েছে। মূলত তারই আলোকে সৌদি সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেন, মার্স করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের রোগ। তবে কেন এ রোগ হচ্ছে, সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। দেখা গেছে, একজন আক্রান্ত হলে দ্রুত অন্যজন আক্রান্ত হচ্ছে। যে হাসপাতালে রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন সে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকারাও আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ‘পাবলিক হেলথ ইমারজেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন’ জারি করেনি। তবে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা মার্স বিষয়ে পরামর্শ দিতে ১৫ সদস্যের যে উচ্চ মতাসম্পন্ন একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘোষণা করেছে, মাহমুদুর রহমান তার একজন সদস্য।

>