বৃহস্পতিবার , ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ , ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১০ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > স্বাক্ষীর কাঠগড়ায় কাঁদলেন ফেলানীর বাবা

স্বাক্ষীর কাঠগড়ায় কাঁদলেন ফেলানীর বাবা

শেয়ার করুন

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ নিজের মেয়ের মৃত্যুর স্যা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম।

সোমবার পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলা থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে সোনারিতে ১৮১ নং বিএসএফ-এর কেন্দ্রীয় ব্যাটালিয়নের বিশেষ আদালতে বিচার ট্রাইব্যুনাল বসে। সকাল ১১টার দিকে শুরু হয় স্যাগ্রহণ।

জানা গেছে, নিজের ১৫ বছরের কিশোরী মেয়ে ফেলানীর মৃত্যুর প্রত্যদর্শী হিসেবে এদিন স্যা দিতে উঠেন ফেলানীর বাবা। সেদিনের ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নিজেকে সামলাতে পারেননি নুরুল ইসলাম। এক সময় কাঠগড়ায় (উইটনেস বক্স) দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। এ সময় বিএসএফ কর্মকর্তারা তাঁকে সান্তনা দিতে চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে বিশেষ আদালতের পাশে অন্য একটি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

বিএসএফ-এর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাী দেওয়ার জন্য রোববার বিকালের দিকে ভারতে এসে পৌঁছান নিহত ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম, মামা আব্দুল হানিফ, কুড়িগ্রামের বিজিবি’র ৪৫ নম্বর ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল জিয়াউল হক খালেদ, কুড়িগ্রাম জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী আব্রাহাম লিংকন।

এদিকে স্যাগ্রহণকে ঘিরে সোনারিতে ১৮১ নং বিএসএফ-এর কেন্দ্রীয় ব্যাটালিয়নের বিশেষ আদালতের বাইরে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। গণমাধ্যমের কর্মীদের পাশাপাশি আশেপাশের গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

উল্লেখ্য,২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ১৫ বছরের ফেলানী বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়। কাঁটাতারের ওপর দীর্ঘণ ঝুলে থাকা ফেলানীর মৃতদেহ নিয়ে সারা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ওই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়। এর পরিপ্রেেিত বিজিবির প থেকে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠক করে প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনার বিচার দাবি করা হয়। এর পর বিএসএফ ফেলানী হত্যার ঘটনায় একটি মামলা করে। গঠন করে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্ট।

দীর্ঘ আড়াই বছর পর ১৩ আগস্ট কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে কোচবিহারের সোনারীতে বিএসএফ ১৮১ সদর দপ্তরে ফেলানী হত্যার দায়ে অভিযুক্ত বিএসএফের সদস্য অমিয় ঘোষের বিচার শুরু হয়। যে আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার চলছে, তা সেনা কোর্ট মার্শালের সমতুল্য জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্স কোর্ট (জিএসএফসি)। প্রথম দিন বিচারকাজ পরিচালনার জন্য পাঁচজন বিচারককে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরের দিন ১৪ আগস্ট থেকে শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনে অভিযুক্ত কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হয়। অমিয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা (অনিচ্ছাকৃত খুন) এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ নেওয়া হয়েছে।

>