সোমবার , ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ , ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৪ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > হরতালে সহিংসতা

হরতালে সহিংসতা

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘন্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মহাসড়কে কোন যানবাহন চলছে না। হরতালের সমর্থনে বিভাগীয় এবং জেলা শহরগুলোতে পিকেটিং করছেন জামায়াত-শিবির কর্মীরা। তারা সড়কও অবরোধ করে রেখেছেন। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ চলছে। তবে ঢাকায় হরতাল পালিত হচ্ছে অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে। রাস্তায় বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করছে। যদিও বেশ কয়েকটি স্থানে জামায়াত-শিবির কর্মীরা মিছিল বের করেন।
হরতালে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে মেহেরপুর থেকে। মেহেরপুর সদর উপজেলার বন্দর গ্রামে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন শিবির কর্মী গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আহত এক শিবির কর্মীর মৃত্যুর গুজব শোনা গেলেও কোন সূত্রে এখন পর্যন্ত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংঘর্ষের সময় সদর থানা পুলিশের একটি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এদিকে, সদর উপজেলার কায়েম কাটার মোড়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে ও আগুন ধরিয়ে অবরোধ করে রেখেছে। ভোর রাত থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করছে। এছাড়া মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের রাজনগর নামক স্থানেও জামায়াত শিবির-কর্মীরা সড়ক অবরোধ করে রেখেছে। রাস্তায় গাছের গুড়ি ফেলে তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।
খুলনায় গাছের গুড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। এসময় তারা রাস্তার উপর পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালায় এবং তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। নগরীর রূপসা সেতুর বাইপাস সড়কে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর বসুপাড়া ও লাল হাসপাতাল এলাকায় জামায়াত শিবিরকর্মীরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আলাদা দু’টি মিছিল করে।
জামায়াতের ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিনে কুষ্টিয়ায় সড়ক অবরোধ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ভাদালিয়া নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। হরতালের সমর্থনে শিবির কর্মীরা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ভাদালিয়া নামক স্থানে সরকার বিরোধী স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং গাছের গুড়ি ফেলে ও টায়াররে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে শিবির কর্মীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
হরতালের দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সিলেটে পুলিশের সঙ্গে শিবির কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সকালে নগরীর পশ্চিম সুবিদ বাজার এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর করেছে শিবিরকর্মীরা। এসময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হন, হেলমেট খোয়া যায় কয়েকজনের। হরতালের প্রথম দিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পশ্চিম সুবিদ বাজার এলাকায় ঝটিকা মিছিল নিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধের চেষ্টা করে শিবিরকর্মীরা। তাদের বাধা দিতে পুলিশের একটি টহল দল মিছিলের দিকে এগিয়ে গেলে শিবিরকর্মীরা পুলিশকে ধাওয়া করে এবং পুলিশবাহী হিউম্যান হলারটিতে ভাংচুর চালায়।
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে জানান: হরতাল চলাকালে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় একটি বাসে আগুন দিয়েছে হরতালকারীরা। সকাল পৌনে আট টায় ১০-১২ জন পিকেটার অতর্কিত হামলা করে ভিআইপি ২৭ পরিবহনের ওই বাসটি ভাঙচুর করে এবং বাসটিতে আগুন দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আগুন নেভায়। আগুনে বাসের সিট ও সামনের অংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া জেলার অন্যত্র কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে গত রাতে ভোগড়ায় বাস পোড়ানোর অভিযোগে ১১ জনের নামোল্লেখ করে ৩৫ জন জামায়াত শিবির কর্মীর নামের জয়দেবপুর থানায় মামলা করেছে পুলিশ। এঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
ঢাকায় হরতাল চিত্র: হরতালের সমর্থনে সকালে কাজলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিল বের করে ইসলামী ছাত্র শিবির। মিছিল থেকে শিবির কর্মীরা তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা আটকে একটি স্টাফ বাস ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পাশে দায়িত্বরত পুলিশ ধাওয়া করলে শিবিরকর্মীরা পালিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। শনির আখড়া এলাকায় সকাল সাড়ে ৬টায় শনি মন্দির সংলগ্ন পলাশপুর গলিতে হরতাল সমর্থকরা মিছিলের প্রস্তুতি নেয়ার সময় একজনকে আটক করে পুলিশ। খিলখেতে সকালে মিছিল করেছেন শিবির কর্মীরা। এছাড়াশাহজাদপুর, আজিমপুরেও জামায়াত-শিবির মিছিল করেছে।

>