বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > হাসিনার অধীনে নির্বাচনে বিএনপি যদি যায় তবে….

হাসিনার অধীনে নির্বাচনে বিএনপি যদি যায় তবে….

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশের রাজনীতিকে ক্রমশ সংঘাতময় করে তোলা একটি পরিকল্পনারই অংশ। এ ছক তৈরি করেছেন রাজনীতির কারবারিরা। দেশী-বিদেশী অন্তত নয়টি জরিপ এটা নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমান মতাসীনদের মতায় ফেরার সম্ভাবনা ীণ। পাঁচ সিটি করপোরেশন বিশেষ করে গাজীপুরের নির্বাচনের পর মতাসীনরা হত্যোদ্যম হয়ে পড়েন। যদিও এরআগের চারটি সিটির নির্বাচনে মতাসীনরা প্রথম ধাক্কা খায় কৌশলের রাজনীতিতেই। কারণ তাদের কাছে তথ্য ছিল, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপি কোন নির্বাচনে অংশ নিবে না। যে কারণে খালি মাঠে গোল দেয়ার জন্যই এসব নির্বাচন আয়োজন করা হয়। যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বরাবরই সিটি নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছিলেন।
পরাজয়ের আগে পরাজয় আতঙ্ক ভর করা নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙা করতেই রাজনীতিতে সক্রিয় করা হয় প্রযুক্তিবিদকে। বিরোধীদের প্রপাগান্ডা মোকাবিলা করতে না পারাতেই তিনি দেখছেন সবচেয়ে বড় সমস্যা। গণভবনে সম্পাদকদের সঙ্গেও এ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। যেখানে তিনি বলেছেন, আপনারা বুঝেন না। প্রচারেই আমাদের সমস্যা। এরপরই আওয়ামী লীগ তার প্রচারণার রাজনীতি জোরদার করেছে।
তবে অন্য রাজনীতিও থেমে নেই। এটা হলফ করেই বলা যায়, বাংলাদেশে এখন কেউই নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারবেন না নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন হবেই। অনিশ্চয়তাই যেন এখন একমাত্র নিশ্চয়তা। যদিও পর্দার অন্তরালে বিদেশী অতিথিরা সক্রিয়। প্রতিদিনই কোন না কোন দাওয়াতে কথা বলছেন তারা। কিন্তু আলোচনাই সার। সংকট সমাধানের কোন পথই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সংলাপ বটিকা নিয়েও এখন আর আলোচনা নেই।
হাইকোর্টের একটি রায় রাজনীতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। হাইকোর্ট বেঞ্চের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায়ে নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেছে জামায়াতে ইসলামীর। এ রায় স্থগিতে দলটির দায়ের করা আবেদন নাকচ করেছেন আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দীন চৌধুরী। মাননীয় বিচারপতির এ আদেশের পর ঠিক এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোন সংসদ নির্বাচন হলে তাতে জামায়াতের অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। আগ্রহী পাঠকরা স্মরণ করে দেখতে পারেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারও বাতিল হয়েছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির রায়ে। যদিও জামায়াতের জন্য এর চেয়ে বড় বিপদও অপো করছে। দলটির সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার মামলায় ১৫ই সেপ্টেম্বরের পরে যে কোন দিন রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই মুহূর্তে জামায়াত সবচেয়ে উদ্বিগ্ন তাকে নিয়ে। গত ১লা আগস্টই এ মামলায় রায় নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে দলটিতে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল।
আগেই বলা হয়েছে, পরিস্থিতি ক্রমশ সংঘাতময় করে তোলার পরিকল্পনা পরিকল্পিতই। এবং এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং জামায়াত ‘নিষিদ্ধ’ ইস্যুতে ঈদের পর রাজনীতি হবে উত্তপ্ত। রক্তাক্ত আর সংঘাতময় দিনগুলোতেই হয়তো আমরা ফিরে যাবো। পরিস্থিতি যতই খারাপ হোক একদলীয় নির্বাচনের দিকেই হাঁটতে চাইবেন মতাসীনরা। রাজনীতির গভীর পর্যবেক প্রফেসর তালুকদার মনিরুজ্জামান যেমন বলেছেন, হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এবং জামায়াতের অংশ গ্রহণের সম্ভাবনা নেই। আর এইচএম এরশাদ বরাবরই অনিশ্চিত চরিত্র। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদেশীদের বুঝানোর চেষ্টা হচ্ছে বিএনপি যদি মতায় আসে সেেেত্র বাংলাদেশে হেফাজত আর জামায়াতের নামে জঙ্গিদেরই উত্থান হবে। তবে এ প্রচেষ্টার সফলতার কোন খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
এই যখন অবস্থা তখন, বর্তমান মতাসীনদের অধীনে অনুষ্ঠিত কোন নির্বাচনেও যদি বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোট অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তবে পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে। একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ ব্যাপারে বলেছেন, তবুও নির্বাচন ভণ্ডুল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ সবাই বিজয়ের গ্যারান্টি চায়। নির্বাচন ভণ্ডুল হলে কি হবে তার জবাবে তিনি বলেন, মতাসীনরা দুই বছরের বিরতি চায়। আবার কিনহ্যান্ডে আসতে চান তারা।
আশার কথাও আছে। সমঝোতা প্রচেষ্টায় জড়িত বিদেশী অতিথিরা বলছেন, নির্বাচন হবেই। তবে পর্যবেকদের মতে, ড. তালুকদার মনিরুজ্জামানের ধারণা অনুযায়ী ভারত যদি নিরপে ভূমিকা পালন করে, তাহলেই কেবল তা সম্ভব।

>