মঙ্গলবার , ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ , ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৮ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > গ্যালারীর খবর > হোটেল কমিউনিটি সেন্টার রিসোর্টের জন্য আইন হচ্ছে

হোটেল কমিউনিটি সেন্টার রিসোর্টের জন্য আইন হচ্ছে

শেয়ার করুন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস, রেস্ট হাউস, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন সেন্টার, পার্টি সেন্টারকে অবশেষে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ‘বাংলাদেশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ আইন-২০১৩’ শীর্ষক এ আইনের খসড়া ইতিমধ্যে তৈরি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মতামত দিয়ে খসড়াটি বেসামরিক পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আইনটি প্রয়োগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবার মান নিশ্চিত করা যাবে। এত দিন শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা যেত। প্রক্রিয়াধীন আইনটি পাস হলে নিবন্ধন, লাইসেন্স, নবায়ন-এসব বাধ্যবাধকতা আরোপ হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আইনটির খসড়া তৈরি করে এবং তাতে মতামত দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এত দিন ধরে এসব হোটেল-রেস্তোরাঁ ১৯৮২ সালের অধ্যাদেশ অনুযায়ী চলত। এখন আইন করার প্রক্রিয়া চলছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘হোটেল-রেস্তোরাঁ প্রভৃতির সেবা ও সুযোগ-সুবিধার মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্যই এ আইন করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, ‘আইন হওয়া ভালো। অনেক সময় মানুষ হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রতারণার শিকার হয়। তবে আমি মনে করি আইন পাস হওয়ার আগে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা হলে আমরা পরামর্শ দিতে পারি।’ আইনের শিরোনামে শুধু হোটেল ও রেস্তোরাঁর কথা উল্লেখ থাকলেও এর মধ্যে মোটেল, গেস্ট হাউস, রেস্ট হাউস, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, কমিউনিটি সেন্টার, কনভেনশন সেন্টার, পার্টি সেন্টার আওতাভুক্ত থাকছে।

আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, এর আওতাধীন কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া ব্যবসা চালাতে পারবে না। তারকাধারী হোটেলের ক্ষেত্রে লাইসেন্স পাওয়ার আগেই বিজ্ঞাপন দিলে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা হবে ও বিজ্ঞাপন প্রচার অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য আরো ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে উদ্বোধনের দুই মাসের মধ্যে নির্ধারিত ফি দিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে নিবন্ধন করতে হবে, না করা হলে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। প্রতিষ্ঠানের ভবনের কাঠামো নিরাপদ না হলে এবং আগুন, বিদ্যুৎ কিংবা গ্যাসজনিত দুর্ঘটনা থেকে পর্যাপ্ত সুরক্ষা না দিতে পারলে, অতিথি বা ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশসম্মত না হলে নিবন্ধন করা হবে না। নিবন্ধন করার পর ছয় মাসের মধ্যে লাইসেন্স ও মান নির্ধারণের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করবেন। একবার লাইসেন্স দেওয়া হলে তার মেয়াদ হবে এক বছর। এরপর নির্ধারিত ফি দিয়ে আরো এক বছরের নবায়ন করতে হবে।

আইনের খড়সায় মতামত দিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন, লাইসেন্স বা নবায়নের জন্য আবেদন না করলে অনূর্ধ্ব ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে এবং পরবর্তী প্রতিদিনের জন্য আরো এক হাজার টাকা করে জরিমানা যোগ হতে থাকবে।

খসড়ায় আরো বলা হয়, আইনের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ন্যায্য দর, সুবিধাদি, অনুসরণীয় নীতিমালা প্রকাশ্য স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

খসড়ার ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ লিখিত আদেশে কোনো তিন তারকা বা তদূর্ধ্ব তারকাসংবলিত হোটেলের আড়াই শ মিটারের মধ্যে যেকোনো ব্যবসা, পেশা, কারবার বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা নিষিদ্ধ করতে পারবে। অতিথি বা ক্রেতাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, রুচির জন্য ক্ষতিকর কিছু থাকলে তবেই কর্তৃপক্ষ এমন ব্যবস্থা নিতে পারবে।

১৯ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো মালিক বা ব্যবস্থাপক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর কোনো খাদ্য বা পানীয় পরিবেশন করেন অথবা মাছির দ্বারা বা অন্য কোনো প্রকারে সংক্রমণ থেকে খাদ্য ও পানীয় সংরক্ষণ সুনিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত যতœ না নেন অথবা অপরিষ্কার বা দূষিত বাসনপত্রে কোনো খাদ্য বা পানীয় পরিবেশন করেন, তাহলে তাঁকে অনধিক এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।

২১ ধারায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো মালিক নির্ধারিত ন্যূনতম মানের সেবা ও সুবিধাদি উন্নত করতে ব্যর্থ হন, নিয়ন্ত্রক ওই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে বা অনধিক এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করতে পারবেন। ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রকের অনুমতি না নিয়ে কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের নাম-ঠিকানা, মালিকানা বা অংশীদারত্ব পরিবর্তন বা হস্তান্তর করলে অনধিক ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। তবে এসব জরিমানা না দিলে কী শাস্তি দেওয়া হবে তা খসড়ায় উল্লেখ নেই।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় খসড়ায় নিয়ন্ত্রক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলেছিল। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাতে আপত্তি জানিয়ে বলেছে, মোবাইল কোর্ট আইনের তফসিলে প্রচলিত অন্য কোনো আইন অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া চলে। তাই সরাসরি এই হোটেল-রেস্তোরাঁসংক্রান্ত আইনের মধ্যে মোবাইল কোর্ট আইন অনুসারে বিচার সম্পন্ন করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা ঠিক হবে না।

>