মঙ্গলবার , ১লা ডিসেম্বর, ২০২০ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > খেলা > হোল্ডার জাদুতে জয় ক্রিকেটের

হোল্ডার জাদুতে জয় ক্রিকেটের

শেয়ার করুন

স্পোর্টস ডেস্ক ॥ শেষ ওভারে শেষ উইকেট জুটিতে ১৪ আর শেষ বলে ২ রানের চরম নাটকীয়টায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের মধ্যকার পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয়টি ব্যাপক উত্তেজনা ছাড়িয়ে ‘টাই’ হয়েছে। শুক্রবারের ম্যাচে ৯৭ ওভার পর্যন্ত মনে হয়েছে ম্যাচ জিতছে পাকিস্তান। দুই দলের জন্য নির্ধারিত ১০০ ওভারের খেলার শেষ তিন ওভারেই ম্যাচের ভাগ্য উত্তেজনাময় হয়ে পড়ে তুমুলভাবে। শেষ তিন ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের তরুণ পেসার জেসন হোল্ডারেরর কাছে হেরে (!) গেছে পাকিস্তান। ম্যাচ কিন্তু হারেনি পাকিস্তান বরং গৌরবময় ‘টাই’ হয়েছে। কিন্তু খেলা শেষে ক্যারিবীয়দের বাধভাঙা উল্লাসে ছিল ম্যাচ জয়ের আমেজ। জয়ের চেয়ে কোন অংশে তাদের জন্য কম ছিল না এই ‘টাই’ ম্যাচ। হারতে হারতে এমন ‘টাই’ তো জয়ের আনন্দই দিতে পারে। পান্তরে জিততে জিততেও ‘টাই’ ম্যাচ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানিদের। ম্যাচ শেষে হতাশার একটা কালো রেখা ফুটে ওঠে পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের কপালে।
পাঁচ ম্যাচে ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয়টিতে শুক্রবার টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ২২৯ রানের মামুলি সংগ্রহ দাঁড় করে পাকিস্তান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে জয়ের জন্য শেষ তিন ওভারে ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন পড়ে ৩৯ রান! ওভার প্রতি ১৩ রান করে। ৪৮তম ওভারের প্রথম বলেই সাঈদ আজমলকে বিশাল এক ছক্কা হাঁকান সুনীল নারাইন। পরের দুই বলে আরও দু’টি চার মারেন। তিন বলে ১৪ রান নিয়ে পঞ্চম বলে ফিরে যান নারাইন। ব্যাটে আসেন এই ম্যাচ ‘টাই’ করার মূল নায়ক জেসন হোল্ডার। ৪৯তম ওভারে জুনাইদ খানকে একটিমাত্র চার মারেন কেমার রোচ। এই ওভারে রান আসায় কপালে ভাজ দ্বিগুণ হয়ে ওঠে হোল্ডারের। শেষ ওভারে জয়ের জন্য তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ১৫ রান। শেষ জুটিতে ব্যাট করছেন কেমার রোচ ও জেসন হোল্ডার। ওয়াহাব রিয়াজের করা প্রথম চার বলে হোল্ডার ৫ আর রোচ নেন ১ রান। জয়ের জন্য শেষ দুই বলে তখন প্রয়োজন ৯ রান! এমন এক প্রায় অসম্ভব ল্যকে সামনে নিয়ে অমিত সাহস বুকে নিয়ে পঞ্চম বলে ব্যাট চালান হোল্ডার। বল আছড়ে পড়ে গ্যালারিতে। এই ছক্কার সঙ্গে আনন্দ আর উত্তেজনাও উপচে পড়ে গ্যালারিতে। হারের চিন্তা বাদ দিয়ে তখন হোল্ডারের মনে দুলছে জয়ের বড় আশা। এক বলে তিন রান নিতে পারলেই জয় তাদের মুঠোয় চলে আসবে। সে েেত্র প্রয়োজন একটি মাত্র চার। শেষ বলটি ফুল টস দিয়েছিলেন ওয়াহাব। কিন্তু বলটি হোল্ডারে ব্যাটের কানায় লেগে উইকেট রকের পাশ দিয়ে চলে থার্ডম্যান এলাকায়। প্রথম রানটি নেন খুবই প্রিতার সঙ্গে। জুনাইদ খান বল ফেরত দেন দ্রুততার সঙ্গে। কিন্তু কি দিয়ে কি হল, উইকেট রক কামরান আকমল বলটি হাতে গলাতে ব্যর্থ হলেন। আর মাত্র একটি রান। নিতে পারলেই ম্যাচ হবে ‘টাই’। দম বন্ধ করে দৌড় দিলেন দুই ব্যাটসম্যান। কাঙ্তি সেই ‘টাই’ সূচক রানটি নিয়ে জয়ের আনন্দে তখন ক্যারিবীয়রা। রাজ্য জয়ের আনন্দে জেসন হোল্ডার। শেষ উইকেট জুটিতে ১৩ বলে ২৪ রানের জুটিই শেষ পর্যন্ত গৌবরময় টাই এনে দেয় ক্যারিবীয়দের। ৯ বলে এক চার ও এক ছক্কার মাধ্যমে ১৯ রানে অপরাজিতত থাকেন হোল্ডার।
শুরুতে অবশ্য লেন্ডল সিমন্সের ৮৬ বলে ৭৫ রান ও মারলন স্যামুয়েলসের ১০৬ বলে ৪৬ রানের ধীরলয়ের ব্যাটিংয়ে টার্গেট তাড়া করতে সাহায্য করে।
এর আগে পাকিস্তানের অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের ১১২ বলে ৭৫ রানের ইনিংস ২২৯ রানের পুঁজি সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া উমর আকমলের ৩১ বলে ৪০ রান ছাড়া আর কোন ব্যাটসম্যান বড় রানের দেখা পাননি। অভিষিক্ত হারিস সোহাইল ৩৭ বলে ২৬ আর ওপেনার নাসির জামশেদ করেন ২৮ বলে ২০ রান। তবে তাদের এই রান সংগ্রহে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল সপ্তম উইকেট জুটির ৫২ রান। উমর আকমল ও ওয়াহাব রিয়াজ শেষ ৪.২ ওভারে করেন এই রান। পাঁচ ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ এ সমতা বিরাজ করছে। সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ আজ অনুষ্ঠিত হবে।
দুই অধিনায়কের প্রতিক্রিয়া: ম্যাচ শেষে মিসবাহ বলেন, এটা সত্যিই হতাশাজনক, আমি বলবো হোল্ডার শেষদিকে আমাদের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। শেষ ওভারে বোলিং ঠিক ছিল কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাল খেলেছে। ক্যারিবীয় অধিনায়ক ড্যারেন ব্র্যাভো বলেন, এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে আমরা পিছিয়ে ছিলাম কিন্তু বোলাররা আমাদের শেষ বা করেছে।
সংপ্তি স্কোর
পাকিস্তান: ২২৯/৬ (মিসবাহ ৭৫, উমর ৪০, হারিস ২৬, জামশেদ ২০, শেহজাদ ১৭, ওয়াহাব ১৯, হোল্ডার ২/৪০, স্যামি ১/৩০, রোচ ১/৩৫, ডোয়াইন ২/৫০)
ও. ইন্ডিজ: ২২৯/৯ (সিমন্স ৭৫, স্যামুয়েলস ৪৬, হোল্ডার ১৯*, নারাইন ১৪, ড্যারেন ১৭, আজমল ৩/৩৬, জুনাইদ ৩/৫৪, ইরফান ২/৩৪, ওয়াহাব ১/৬৩)
ফল: ম্যাচ ‘টাই’।
ম্যাচ সেরা: মিসবাহ ও সিমন্স।
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজ ১-১।

>