বুধবার , ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ , ১০ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ , ৯ই রবিউস সানি, ১৪৪২

হোম > Uncategorized > ১৪৪ ধারা ভেঙে আ.লীগের সংঘর্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান নিহত

১৪৪ ধারা ভেঙে আ.লীগের সংঘর্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান নিহত

শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ ॥ ধোবাউড়ায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষে উপজেলা চেয়ারম্যান ফুরকান উদ্দিন মৃধা সেলিম নিহত হয়েছেন। এতে আরও আহত হয়েছে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন। সংঘর্ষে কয়েক রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়।

রোববার বিকেলে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. প্রমোদ মানকিনের অনুষ্ঠানের পরই এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে সংঘর্ষের আশঙ্কায় উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। সেই ধারা ভঙ্গ করেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।

রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফুরকান উদ্দিন সেলিম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। সেখানে অবস্থান করছেন জেলার ১২ উপজেলার চেয়ারম্যানরা। তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ধোবাউড়া সদরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. প্রমোদ মানকিন ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময়ে ২নং গামারী তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক খান ভিআইপিদের খাবার রুমে প্রবেশ করায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ফুরকান উদ্দিন মৃধা সেলিম, তার ভাই মজনু ও তার লোকজন তাকে লাঞ্ছিত করে।

ঘটনার পর আহত আজিজুল হক তার এলাকা কলসিন্দুর বাজারে চলে যান। খবর পেয়ে দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে কলসিন্দুর বাজারে ২/৩ হাজার লোকজন সমবেত হয়। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ফুরকান উদ্দিন মৃধাও সদরে সশস্ত্র লোকজন নিয়ে অবস্থান নেয়।

এ ঘটনার পরিপ্রক্ষিতে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিকাল ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপজেলা সদরে ১৪৪ ধারা জারি করে। তবে বিকেল ৫ টায় ১৪৪ ধারা ভেঙে হাজার হাজার মানুষ উপজেলা সদরের পঞ্চনন্দপুর এলাকায় কলসিন্দুর রোডে ঢুকে পড়লে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আধা ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়।

সংঘর্ষে ধোবাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফুরকান উদ্দিন মারাত্মক আহত হন। এছাড়াও উভয় পক্ষের আহত হন অন্তত ২০ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহতদের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান ফুরকান উদ্দিন সেলিম(৪০), তার ভাই মজনু (৩৫), টিপু (৩২), আওয়াল (৩৬) ও রিপনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টায় উপজেলা চেয়ারম্যান ফুরকান উদ্দিন মারা যান।

>