কালীগঞ্জে নিখোঁজের চারদিন পর নদী থেকে রিয়াদের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: February 20, 2019 | সময়: 10:14 pm

কালীগঞ্জ ব্যুরো ॥
কালীগঞ্জে নিখোঁজের চারদিন পর রিয়াদের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার করলো পুলিশ। বুধবার সকালে কালীগঞ্জ পৌরসভার মূলগাঁও এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে রিয়াদের লাশ উদ্ধার করে সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত রিয়াদ সিকদার কালীগঞ্জ পৌর এলাকার মূলগাঁও গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত শাহজাহান সিকদারের পুত্র। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে রিয়াদ ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও সে বাঁচতে পারেনি। চারদিন পর তার মৃতদেহ নদীতে ভেসে উঠে। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ওসি মো. আবু বকর মিয়া বলেন, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নয়, সে নদীর মাটি কেটে বিক্রি করতো। তাই পুলিশের ভয়ে সে নদীতে ঝাঁপ দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিয়াদ এবং তার তিন স্বজন দুলাল, রূপম, ও আইয়ুুব শীতলক্ষ্যা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রি করছে। এমন খবর পেয়ে গত রোববার ভোরে কালীগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিমের নেতৃত্বে ওই নদীর তীরে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মাটি বিক্রির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলো পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজৈর এলাকার নূর নবী (৪০), আকাশ(২০), সৈয়দ আহমদ(২২), ইমরান হোসেন (২৩) ও মো. রনি(২৫)।
ওই সময় পুলিশের ভয়ে রিয়াদসহ চারজন শীতলক্ষ্যা নদীতে ঝাঁপ দেয়। তিনজন সাঁতরিয়ে নদীর ওপার পৌঁছলেও রিয়াদ নদীতে তলিয়ে যায় বলে তার স্বজনদের অভিযোগ। ঘটনার পর রোববার নিহতের ভাই রিফাত শিকদার জানান, মূলগাঁও গ্রামে তাদের জমির পাশে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর থেকে তার ভাই গত সপ্তাহখানেক আগে থেকে মাটি বিক্রি করছিল। ক্রেতারা নৌকাযোগে মাটি নিয়ে যেত। রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে তার ভাই রিয়াদ এবং তাদের তিন স্বজন দুলাল, রূপম, ও আইয়ুুব নৌকায় মাটি উঠানো এবং মাটি কাটা দেখতে যান। এসময় কালীগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম ফোর্স নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এসময় সকলেই পালিয়ে যায়। তবে তার ভাই রিয়াদ সিকদার ওই মুহুর্তে পালাতে পারেনি। সে পুলিশের ভয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে বলে স্থানীয় তাদের জানিয়েছে।