খুলনায় ক্রীড়াঙ্গণ বাচাঁও আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: July 6, 2013 | সময়: 1:03 pm

খুলনা প্রতিনিধি ॥
খুলনা: খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতা দারা-শামীম গং ক্রিকেট ভেন্যু স্থগিত করেই খ্যান্ত হননি। তারা অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে খুলনার ক্রীড়াঙ্গণকে ধ্বংস করছেন।
ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, কালোবাজারে সৌজন্য টিকেট বিক্রি ও অব্যবস্থাপনার জন্য খুলনার ক্রীড়াঙ্গণ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এক সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে কোনো খেলায় খুলনার খেলোয়াড় ছাড়া দল গঠন করা সম্ভব ছিল না। কিন্তু বর্তমানে তা শূন্যের কোঠায়।
শুক্রবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে খুলনার ক্রীড়াঙ্গণ বাচাঁও আন্দোলন কমিটির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন।
এ সময় তিনি বর্তমান অবৈধ কমিটির হাত থেকে খুলনার ক্রীড়াঙ্গণকে বাঁচাতে বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২০ জুলাই সকাল ১১টায় নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন, ২২ জুলাই সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং ঈদের পর গণঅনশন।
লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সাইফুল আরও অভিযোগ করেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন নিয়ে উচ্চ ও নিম্ন আদালতে কয়েকটি মামলা রয়েছে যা বিচারাধীন। মামলার শুনানি বন্ধ ও অবৈধ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে জেলা প্রশাসন একগুঁয়েমি করে নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। ২৩৮ জন ভোটারের মধ্যে ১৩৪ জন ভোট প্রয়োগ করেছেন, যার মধ্যে ৩৫ জন প্রশাসনিক ভোটার।
এ ছাড়াও শুধুমাত্র ক্ষমতা ধরে রাখতে আর্থিক অনিয়ম বৈধ করার জন্য নিয়ম বর্হিভূত প্রায় ৬০ লাখ টাকা খরচের হিসাব অনুমোদন না হওয়ায় কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষরের ক্ষমতা পরিবর্তন করে জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর দিয়ে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে খেলোয়াড়, কোচ, ম্যানেজার ও অধিনায়ক নিয়োগে স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। যার ফলে গত তিনবারের চ্যাম্পিয়ন খুলনা জেলা ক্রিকেট দল এবার আঞ্চলিক পর্যায়ে থেকে বিদায় নিয়েছে। বিভাগীয় মহিলা ক্রিকেট দলের পরাজয়, অনুর্ধ্ব-১৬ ক্রিকেট দলের পরাজয় ও জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে বিপর্যয় অন্যতম।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র ও খুলনা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজমল আহমেদ তপন, আন্দোলন কমিটির আহবায়ক ক্রীড়া সংগঠক সৈয়দ জাহিদ হোসেন, সাবেক খেলোয়াড় ক্রীড়া সংগঠক এ মনসুর আজাদ, একরামূল কবির মিল্টন, মো. ইউসুফ আলী, মজিবর রহমান ফয়েজ, মো. ইউনুস গাজী, ওহিদুজ্জামান খান পল্টু, কাজী নাসিবুল হাসান সানু, মো. আফজালুর রহমান, আসাদুজ্জামান মুরাদ, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, ছোট জাহাঙ্গীর, সোহরাব হোসেন, তরিকুল ইসলাম সোহান, মো. বাবুল হোসেন বাবলা, ওহিদুল ইসলাম সেলিম ও রমেশ মল্লিক প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সকলে প্রশাসনের কাছে প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করে খুলনার প্রতিষ্ঠিত ক্লাব সংগঠকদের নিয়ে পুনর্র্নিবাচনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান।