





কুমিল্লার দেবিদ্বারে সিএনজি চালিত অটোরিক্সার গতিরোধ করে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে এক ইউপি মেম্বারসহ ৮ জন মিলে রাতভর পালাক্রমে গণধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।এ ঘটনায় পুলিশ শুক্রবার (১০ মে) অভিযান চালিয়ে উপজেলার ১২ নং ভানী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার সূর্য্যপুর গ্রামের মৃত সামসুল হকের পুত্র নবীরুল মেম্বার (৩৯) এবং মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের






মোঃ বাবুল খানের পুত্র শহিদ খান পাখীকে (৩২) গ্রেফতার করে। এরপর আজ শনিবার (১১ মে) দুপুরে কুমিল্লা আদালতে হাজির করা হয়।কুমিল্লা ৪নং বিচারিক আমলী আদালতের জেষ্ঠ্য বিচারক রোকেয়া বেগমের আদালতে অভিযুক্তরা ধর্ষণের সত্যতা ও দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। বিচারক রোকেয়া বেগম তাদের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় নথিভূক্ত করে অভিযুক্তদের জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ






দেন।যৌন নিপীড়নের ঘটনাটি গত ১৮ জানুয়ারি সংঘটিত হলেও নানা প্রতিবন্ধকতা প্রতিপক্ষের ভীতি প্রদর্শনের কারণে মামলা দায়ের করার সাহস পায়নি। অবশেষে শুক্রবার দুপুরে তার স্বামীসহ দেবীদ্বার থানায় এসে ভিকটিম মুন্নি আক্তার উপজেলার সূর্যপুর গ্রামের মৃত শামসুল হকের






পুত্র নবীরুল মেম্বার, একই গ্রামের আব্দুল হাকিমের পুত্র আকাশ, সিরাজুল ইসলামের পুত্র আলিম, আ. মালেকের (মালুমিয়া) পুত্র মোস্তফা, মুরাদনগর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের বাবুল খাঁনের পুত্র শহিদ খাঁন প্রকাশ পাখি, সুলতান আহাম্মদ খন্দকারের পুত্র শমীম খন্দকার, অজ্ঞাতনামা আরও দুইজন সহ মোট ৮ জনকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেয়া হয়






অফিসার ইনচার্জ ওসি (তদন্ত) মেজবাহ উদ্দিনকে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ১৮ জানুয়ারি যৌন নিপীড়নের শিকার ওই গৃহবধূ মোসা. মুন্নী আক্তার তার স্বামী মো. ইউছুফ খানের সাথে মুরাদনগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের শ্বশুর বাড়ি থেকে কুমিল্লা শহরের ছোটরা পুরাতন বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় মাধাইয়া বাজরে যাচ্ছিল। বিকাল প্রায় সাড়ে ৩টায় সূর্যপুর বাজারের উত্তর পার্শ্বের বেলাল হোসেনের শিহাব ষ্টোর্সের সামনে আকাশসহ অজ্ঞাতনামা আরো দুইজন তাদের সিএনজি গতিরোধ করে এবং তারা স্বামী-স্ত্রী কিনা সহ নানা জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিবাহের কাবিননামা দেখতে চায়।পরে তাদেরকে সূর্যপুর বাজারের রাসেল ফরাজীর সততা ভ্যারাইটিজ ষ্টোর্সের পেছনে নিয়ে যায়। তাদের উদ্ধারের জন্য সোহেল নামে এক লোকের মোবাইল ফোনে শহিদ খাঁন পাখি এবং একই গ্রামের শমীম খন্দকারকে সংবাদ দিলে তারা এসে তাদেরকে উদ্ধার না করে সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেয়। কাবিননামা ভুয়া অবিহিত করে তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে।নবীরুল মেম্বার ভিকটিমের স্বামী ইউছুফ খানকে জোরপূর্বক একটি সিএনজি যোগে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং ভিকটিম মুন্নি আক্তারকে বাস যোগে কুমিল্লা শহরে তার পিত্রালয়ে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে। ওই দিন রাত অনুমান সাড়ে ৯টায় নবীরুল মেম্বার, শহিদ খাঁন পাখি ও আকাশ ভিকটিমকে নিয়ে সাহারপাড় গ্রামের মাঝিবাড়ির দক্ষিন পাশে মোস্তফার পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে ৮ জন মিলে রাতভর পালাক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করে।ভিকটিম মুন্নি আক্তার জানান, আমাকে ছেড়ে দেয়ার অনেক আকুমি মিনুতি তাদের কান স্পর্শ করেনি। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ওরা একাধিকবার ধর্ষণ করে। নবীরুল মেম্বার ও অন্যান্যদের হাতেপায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চাই, বাঁধা দিতে চাইলে হত্যা করে গুম করে ফেলার হুমকি দেয়। ওদের পালাক্রমে ধর্ষণের কারণে একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ফজরের আযানের শব্দ শুনে জেগে উঠে কাউকে না দেখে গ্রামের ভিতর দিয়ে সূর্যপুর বাজারে যাই। ভোরে এক সিএনজি চালকের সাহায্য নিয়ে আমার স্বামীকে ফোনে সব ঘটনা জানাই।এ ব্যপারে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জহিরুল আনোয়ার জানান, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার নবীরুল ও শহীদ খানকে আটক করে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। সেখানে তারা ধর্ষণের দায় স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে







