কাপাসিয়ায় যৌতুক লোভী স্বামীর অত্যাচারে গৃহবধূ হাসপাতালে

প্রকাশিত: May 14, 2019 | সময়: 8:34 pm

কাপাসিয়া ব্যুরো ॥
গাজীপুর: মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে প্রবাসী স্বামীকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা দেয়ার পরও শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের নির্যাতনের শিকার হয়ে গৃহবধূ মানসুরা খাতুন হাসপাতালে। ঘটনাটি ঘটেছে কাপাসিয়া উপজেলার দূর্গাপুর (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে। এ ব্যাপারে মানসুরা খাতুন বাদী হয়ে স্বামী আলমগীর সরকার, তার ভাই ফারুক ও নাঈমের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার কাপাসিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পাশ^বর্তী শ্রীপুর উপজেলার বেলদিয়া গ্রামের মোঃ আঃ সাহিদ সেখের কন্যা মানসুরা খাতুনের গত ২৮/১০/২০১৩ইং কাপাসিয়া উপজেলার দূর্গাপুর পশ্চিম পাড়ার কফিল উদ্দিন সরকারের প্রবাসী পুত্র আলমগীর সরকারের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। কিছুদিন পর সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী আলমগীরের ব্যবসা ভাল নেই বলে মানসুরার পরিবারের নিকট ৮ লাখ টাকা দাবী করে। আলমগীরের পরিবার খুব বেশী পিরাপিরি করার পর মানসুরার পিতার বাড়িতে তাদের দাওয়াত করে এবং আত্বিয়-স্বজনের উপস্থিতিতে আলমগীরকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা দেয়া হয়। পরবর্তীতে সে সাউথ আফ্রিকা চলে যায় এবং ২ বছরের বেশী সময় বিদেশে থাকার পর আলমগীর বাড়ি ফিরে আসে। কিছুদিন বাড়িতে বসবাস করার পর পুনরায় সাউথ আফ্রিকা চলে যায়। ইতিমধ্যে তাদের সংসারে মেহরিমা সরকার নামে একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। এক পর্যায়ে গত ১৩/২/২০১৯ইং আলমগীর বাড়িতে আসে এবং পুনরায় মানসুরার পরিবারের নিকট আরো ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবী করে। স্বামীর দাবীকৃত ৫ লাখ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গত ৯/৫/২০১৯ইং সকাল ১০টার দিকে উত্তেজিত হয়ে স্বামী আলমগীর, ফারুক ও নাঈম মানসুরার ঘরে এসে তারা মানসুরাকে শারীরিক নির্যাতন করে। তাদের এলোপাথারী মারধরে মানসুরা অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। প্রতিবেশীদের নিকট থেকে খবর পেয়ে মানসুরার ভাই সাহাদাৎ হোসেন ও বোনের জামাই রফিকুল ইসলাম এসে তাকে উদ্ধার করে। আশংকাজনক অবস্থায় প্রথমে মানসুরাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।