আজগর পাঠান
কালীগঞ্জ ব্যুরো ॥
গাজীপুর: কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর বাগমারপাড়া সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তারের বিরুদ্ধে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারধর, গালিগালাজ, অশুভ আচরণ, স্কুল ব্যাগ ডিলে মেরে ফেলে দেওয়া ও অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহার করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।
এমনকি ওই শিক্ষিকার ব্যবহৃত মোটরবাইক পরিস্কারের কাজে ব্যবহার করতো কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে। তার কথা মত কাজ না করলে শিক্ষার্থীদের গালাগালসহ মারধরও করতো।
সোমবার দুপুরের সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ৫০থেকে ৫৫ জনের মত। এদের উপস্থিতি একেবারে কম। বিভিন্ন শ্রেণীতে ১০/১২ জন করে থাকলেও ৫ম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী রয়েছে মাত্র ২জন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তারের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি আপনাদের সাথে কোনো কথা বলবো না। দরকার থাকলে নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে এক নেতা সাথে কথা বলতে বলে। পরে ওই নেতা সাংবাদিকদেরÑ “কি কাজ! কে অভিযোগ করেছে! আপনারা স্কুলে কি করেন! চলে যান! বলে সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিভাবক লিপি আক্তার, পারভিন বেগম, নাজমা আক্তার, মাকসুদা বেগম, মরিয়ম আক্তার, হেলেনা আক্তার, রাশিদা বেগম, আসমা আক্তার, রহিমা বেগম,, আসাদ মিয়া, নাসির উদ্দিন, বাবুল, সিরাজ বাগমার বোরহান উদ্দিন বাগমার, হানিফ বাগমার, কিরন বাগমারসহ আরো একাধিক অভিভাবক জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মারধর, গালিগালাজ, অশুভ আচরণ, স্কুল ব্যাগ ডিলে মেরে ফেলে দেওয়া ও অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া আক্তার। তার এমন অশোভন আচরণে ক্ষুব্ধ অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ এলাকার লোকজন।
আরো জানান, ওই শিক্ষিকার কারণে অভিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়েদেরকে অন্য স্কুলে নিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসির দাবী অনতিবিলম্বে ওই শিক্ষিকাকে অন্যত্র বদলি করা না হলে শিক্ষার্থী শুন্য হয়ে যাবে ওই স্কুল।
এ সংক্রান্ত ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী র্কমকর্তা (ইউএনও) মো. শিবলী সাদিক বলেন- অভিযোগ শুনেছি এখনি তার ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নুরুন্নাহার নিকট কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন- অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন, আমরা ব্যবস্থা নিবো।
এ ব্যাপারে ওই স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম জানান, আমি আট মাস ধরে ট্রেনিংয়ে আছি। ছুটিতে বাড়ি গেলে অনেক অভিভাবকরা আমার কাছে এসে নানা অভিযোগ করেন। পরে আমি বিষয়টি স্কুলের সভাপতি ও স্থানীয় মেম্বার বজলুর রহমান ও এটিও ইসরাত জাহান ম্যাডামকে জানিয়েছি।

