কালীগঞ্জে ‘সরকারী স্কুল মাঠে’ অনুমোদন বিহীন মাসব্যাপী মেলার আয়োজন!

প্রকাশিত: September 15, 2019 | সময়: 8:15 pm

ইব্রাহিম খন্দকার ॥
গাজীপুর: কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মাসব্যাপী ‘তাঁতবস্ত্র ও হস্ত শিল্প মেলা প্রদর্শনী-বিক্রয় ২০১৯’ আয়োজনের আবেদন করেই অনুমোদন বিহীন মেলার প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ করেছে তাঁতি সমিতি।

মেলার আবেদন পত্রে লেখা রয়েছে ‘বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় নিবন্ধিত তাঁতি সমিতির পরিচালনায় মাসব্যাপী ‘দেশীয় তাঁতবস্ত্র ও হস্তশিল্প বিক্রয় প্রদর্শনী মেলা। কিন্তু ব্যানারে আয়োজক হিসেবে লেখা রয়েছে ‘বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

স্কুল মাঠে মেলা চত্বরে তৈরি করা হয়েছে প্রায় পঞ্চাশটির মতো স্টল এবং বিভিন্ন ধরনের বিনোদন মূলক রাইট যা সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টল তৈরির কাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিক জানিয়েছেন প্রতিদিনের স্টলের ভাড়া এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

স্থানীদের অভিযোগ প্রতি বৎসর জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে ‘পৌষ সংক্রান্তির মেলা’ এবং ঈদুল আজহার সময় ‘গরুর হাট’ বসানো হয়। তাতে করে সরকারের আদায় হচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব। অপর দিকে কোনো ইজারা ছাড়াই মাসব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় ফাকিঁ দেয়া হচ্ছে সরকারের রাজস্ব।

আরো জানান, কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠটিই উপজেলা সদরের একমাত্র উন্মুক্ত খেলার মাঠ। খেলাধুলা বঞ্চিত হচ্ছে ওই বিদ্যালয়ের কোমলততি শিক্ষার্থীসহ এলাকার যুবসমাজ। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হওয়া বিপদগামী হয়ে যেতে পারে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ।

এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানা মাধ্যমিক তাঁতি সমিতির সভাপতি মনিরুজ্জামান নয়ন বলেন, মেলার জন্য অনুমতি লাগে না। তবে স্থানীয় এমপি, ইউএনও, ওসির সঙ্গে কথা বলেই মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছি। ভাড়া বাবদ স্টল প্রতি টাকা নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কে এম নুরুল ইসলাম আল-মোশারফ ইবনে কাদির বলেন, মেলার আয়োজকরা আমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলোচনা করলে অনুমতির দেয়ার এখতিয়ার আমার নেই এবং ঊর্ধতন কর্র্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলতে বলি।
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আকিয়াব হোসেন বলেন, অনুমোদনের বিষয়ে আমার জানা নেই। মেলা কর্তৃপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতেই সাময়িক ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম (ডিএসবি ও ডিবি) বলেন, কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে মেলা আয়োজনের বিষেয়ে আমার নিকট কোন তথ্য নেই।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবলী সাদিক জানান, মেলায় যে সব রাইডার স্থাপনা করা হয়েছিল তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এখানে তাঁতবস্ত্র ও হস্তশিল্প বিক্রয় প্রদর্শনী করতে পারবে।

রোববার বিকেলে মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন খেলার জন্য যে সব রাইডার ব্যবহার করা হচ্ছে তা সরানো দুরের কথা পূর্বের অবস্থানেই বিদ্যমান রয়েছে।

মেলার বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।