অবৈধ টাকা কামিয়ে কেউ সুখে থাকতে পারবে না: ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশিত: January 11, 2020 | সময়: 4:19 pm

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, দুর্নীতিবাজ যেসব কর্মকর্তা আছেন, তাদের আমরা ছাই দিয়ে ধরতে চাই। কেউ যেন মনে না করেন, অবৈধভাবে টাকা কামিয়ে তা নিয়ে সুখে থাকবেন।

শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে দুদক-সিটিটিসির উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমরা যাকে ধরতে চাই তাকে শক্ত করেই ধরতে চাই। প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবৈধ টাকার উৎস খোঁজা হচ্ছে। টাকা কোথায় যাচ্ছে, কে টাকা তুলছে সব খোঁজ-খবর নিচ্ছি। অবৈধভাবে কেউ টাকা উপার্জন করলে তাকে সেটা ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। তাদের বিনিয়োগ বন্ধ করা হবে।

প্রশিক্ষণ নিতে আসা দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কাজ করেন। আপনাদের যত বিপদ আসুক, আমরা আপনাদের পাশে থাকবো।

কর্মশালার শুরুতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, সরকার সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। আমাদের কর্মকাণ্ড দিয়ে আমরা সন্ত্রাসকে রুখে দিচ্ছি। ২০১৬ সালের পর থেকে সন্ত্রাসীদের আর মাথা তুলে দাঁড়াতে দেইনি।

ঠিক একইভাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতিবাজদের মাথা তুলে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। আমরা যৌথভাবে কাজ করলে সরকারের দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন হবে।

একই অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, একসময় দুদককে নিয়ে মানুষ ব্যঙ্গ করতো, সে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। ইমেজ সংকট কাটিয়ে উঠেছে দুদক। দুদক মানুষের ভীতির কারণ হতে চায় না, দুদক চায় প্রীতির কারণ হতে।

তিনি বলেন, যদি আপনাদের চোখের সামনে কেউ হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যায়, বুঝবেন এটা কোনো স্বাভাবিক কারণ নয়, এর পেছনে অবৈধ দুর্নীতি জড়িত। আমরা সেই দুর্নীতি মুছে ফেলতে চাই। একটা দেশের উন্নয়নের পথে দুর্নীতি ও অবৈধ টাকা অনেক বড় প্রতিবন্ধকতা।

দুদক কমিশনার ড. মোজাম্মেল বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ আন্দোলনে যদি পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করে, তাহলে আমাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি হয়। আমরা সাহসিকতার সঙ্গে তখন এগিয়ে যেতে পারি।

তিনি আরও বলেন, এখনকার ছেলেমেয়েদের বিসিএসে কোনো বিশেষ কারণে বিশেষ ক্যাডারের প্রতি আগ্রহ অনেক বেশি। নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্যাডারের দিকে সবাই তাকিয়ে থাকে। তবে সেগুলো ভালো উদ্দেশ্যে তারা পছন্দ করে না।