মোহাম্মদ মনজুরুল হক গাজী
স্টাফ রিপোর্টার ॥
ময়মনসিংহ বিভাগকে বাল্যবিবাহমুক্ত করার অংশ হিসেবে গফরগাঁও উপজেলা প্রশাসনের আদেশক্রমে বাল্যবিবাহম্ক্তু গফরগাঁও উপজেলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে “যেখানেই বাল্যবিবাহ সেখানেই প্রতিরোধ ” এই শ্লোগান সম্বলিত ২০ ফিট প্রস্থ এবং ৫ ফিট দৈর্ঘ্যরে ব্যানারে নে’য়া হয়েছে (পুরো গফরগাঁওয়ে) গণস্বাক্ষর। ময়মনসিংহ জেলার দক্ষিণ গফরগাওঁয়ের নিগুয়ারী ইউনিয়নে গাজীপুর জেলার সীমান্ত এলাকার পাশে অবস্থিত জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাদরাসার পুরস্কারপ্রাপ্ত শামসুল হক মহিলা ফাযিল মাদরাসায় বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে গত সপ্তাহব্যাপী এই গণস্বাক্ষরতা অভিযান মাদরাসার সভাপতি নিগুয়ারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাদিউল ইসলাম এবং মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আবুল খাইর মোহাম্মাদ নুরুজ্জামানের নেতৃত্বে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হয়। মাদরাসার শিক্ষকমন্ডলী, কর্মচারীবৃন্দ, ৬ শতাধিক ছাত্রী, অভিভাবক, এলাকার জনপ্রতিনিধিগণ এবং গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের স্বাক্ষর শেষে এই ব্যানার পৌঁছে দেয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের নিকট।
এ বিষয়ে গফরগাঁওয়ের উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মাহবুব উর রহমান জানান, গত ১ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার স্যার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান শিল্পকলা একাডেমিতে সকল ডিসি মহোদয় এবং বিভাগের সকল ইউএনও-দের নিয়ে সমাবেশ করে বাল্যবিবাহমুক্ত ময়মনসিংহ বিভাগ এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ ডিসেম্বর গফরগাঁওয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়ে এ বিষয়ে মানববন্ধন ও সমাবেশ করা হয়েছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। আমার মতে, ‘বাল্যবিবাহমুক্ত গফরগাঁও উপজেলা’ বিষয়টি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
মাদরাসার সভাপতি বলেন, আমার ইউনিয়নের মধ্যে কোন বাল্যবিবাহ সংগঠিত হতে দিবো না ইনশাল্লাহ।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ জানান, এই মাদরাসার কোন ছাত্রী এবং মাদরাসা এলাকাতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আমার এবং মাদরাসার পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে।

