দিল্লি দাঙ্গার চার্জশিট থেকে রেহাই পেলেন বিজেপি নেতারা

প্রকাশিত: June 11, 2020 | সময়: 11:53 am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গত ফেব্রুয়ারিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনায় পুলিশ সর্বশেষ যে চার্জশিট পেশ করেছে তাতে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত বিজেপির নেতা-মন্ত্রীদের নাম উল্লেখই করা হয়নি। ওই চার্জশিট থেকে মূল অভিযুক্তদেরকেই রেহাই দেওয়া হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের অভিযোগপত্রে ওই দাঙ্গার জন্য প্রধানত দায়ী করা হয়েছে সেই সব প্রতিবাদকারীদের যারা শহরের নানা প্রান্তে সেসময় দেশের নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন।

ওই দাঙ্গার ঘটনায় যেসব এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বা যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তা থেকে এটা পরিষ্কার যে, ওই বিক্ষোভে জড়িত মুসলিম নেতা বা ছাত্র-ছাত্রীদেরই এখন দোষী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে দিল্লির উত্তর-পূর্ব প্রান্তে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই ছিলেন মুসলিম।

এর ঠিক আগে শহরে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিবাদ চলছিল এবং পাশাপাশি বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরাও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে নানা উসকানিমূলক বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছিলেন।

দিল্লি বিজেপির বিতর্কিত নেতা কপিল মিশ্রা ২৩ ফেব্রুয়ারি শহরের মৌজপুর চকে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েই হুমকি দিয়েছিলেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে থাকা পর্যন্ত তারা চুপ থাকবেন। কিন্তু তারপরও বিক্ষোভকারীরা রাস্তা খালি না করে দিলে তারা জোর করে তাদের তুলে দেবেন, পুলিশের কথাও শুনবেন না।

এর কিছুদিন আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর এই প্রতিবাদকারীদের উদ্দেশ্য করেই জনসভা থেকে স্লোগান দেন যে, দেশের সঙ্গে যারা বেঈমানি করছে তাদের গুলি করে মারা হবে।

কিন্তু দিল্লি পুলিশের চার্জশিটে দাঙ্গা কীভাবে হলো তা নিয়ে যে দীর্ঘ ঘটনার বর্ণনা করা হয়েছে তাতে এসব বক্তৃতার কোনও উল্লেখই নেই। দিল্লির দাঙ্গাপীড়িতদের হয়ে বেশ কিছু মামলা লড়ছেন মানবাধিকার আইনজীবী কলিন গঞ্জালভেস।

তিনি বলেন, দাঙ্গার সময় পুলিশের বিরুদ্ধেই মারধর, অগ্নিসংযোগ বা ভয় দেখানোর অন্তত ৮০ থেকে ৯০টি অভিযোগ এসেছে। কিন্তু পুলিশ একটারও এফআইআর নিতে রাজি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ভিক্টিমদের বয়ানের ভিত্তিতে নয় বরং পুলিশ তদন্তটা সাজিয়েছে তাদের বানানো গল্প আর সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে। অথচ আমরা সবাই জানি দাঙ্গার মূলে ছিল বিজেপি নেতা-মন্ত্রীদের ঘৃণা ছড়ানো ভাষণ।

মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক সারা নাকভিও বিবিসিকে বলছিলেন, ভারতের বেশির ভাগ টিভি চ্যানেলে যেভাবে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের দেশদ্রোহী সাজানো হয়েছে দিল্লি পুলিশও ঠিক সেই লাইনেই তদন্ত করেছে।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে ওই প্রতিবাদ ছিল নাগরিকদের সমানাধিকারের দাবিতে একটা সিভিল রাইটস মুভমেন্ট। আর দিল্লি পুলিশের চার্জশিট পড়লে মনে হচ্ছে মুসলিমরা এতই চালাক আর ক্ষমতাশালী যে, তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর দাঙ্গা চালিয়েছে।

দিল্লিতে শাহীনবাগ, জামিয়া মিলিয়া বা জাফরাবাদের মতো যারা নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, দিল্লি পুলিশ দাঙ্গায় তাদের ভূমিকা বর্ণনা করেছে যে, এরা প্রায় সবাই মুসলিম। এর আগে দাঙ্গার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে আম আদমি পার্টির বহিষ্কৃত কাউন্সিলর তাহির হোসেনকেও তারা শনাক্ত করেছে।