শিমলাপাড়া বনবিটে ১০ হেক্টর জমি দখলমুক্ত: পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় তৎপর

প্রকাশিত: August 11, 2020 | সময়: 1:11 pm

সাদিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার \
গাজীপুর: সারাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে একদিকে যেমন বনভূমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে বাসস্থান ও খাদ্য সংকটে পড়ছে বন্যপ্রাণীরা। সারাদেশে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় নেওয়া হয়েছে নানান পদক্ষেপ। তারমধ্যে সবচেয়ে প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হল ‘সুফল’ বনায়ন। গাজীপুর জেলার শ্রীপুর রেঞ্জের শিমলাপাড়া বীটের কর্মচারীদের সুষ্ঠু ‘সুফল’ বনায়ন ও ব্যাপক কর্মতৎপরতায় বন ফিরে পেতে চলেছে তার আসল চেহারা।

গাজীপুরের শালবনে এক সময় শাল ছাড়াও ছিল জারুল, কড়ই, অর্জুন, সর্পগন্ধা, শিমুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ সহ প্রচুর পরিমানে বীরু গুল্ম ও নানা প্রজাতির অর্কিড। বানর, কাঠবিড়ালী, সজারু, হরিণসহ নানা ধরণের স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল ছিল এই উদ্যান। এদের পাশপাশি হরবোলা, বসস্তবাউড়ি, শ্যামা, সুইচোরা, টিয়া ইত্যাদি পাখির বিচরণও ছিল এই বনে।
অতীতে বসতের উদ্দেশ্যে বনভূমি উজাড়, বনের ভিতর কৃষিজমি তৈরি, খাবারের অভাবে লোকালয়ে আসা বানর, পাখি ও অন্যান্য পশু হত্যা প্রভৃতি কারণে এই উদ্যান বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

এই পরিবেশ বিপর্যয় ও জীববৈচিত্র রক্ষার জন্য নিরলস কাজ করে গিয়েছেন রাথুরা বিট কর্মকর্তা ও শিমলাপাড়া বিটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন। রাথুরা বিটে কর্মরত অবস্থায় শিমলাপাড়া বিটের ভারপ্রাপ্ত হওয়ার পরেই বদলে যেতে শুরু করে শিমলাপাড়ার বনের চেহারা।
গত ২০ জানুয়ারি তিনি শিমলাপাড়া বিটে ভারপ্রাপ্ত হন। এই অল্প সময়ে সরকারের দেওয়া সুফল প্রকল্প ১৯-২০ এর অধীনে শাল বাগানের ভিতরে এনরিচমেন্ট বনায়ন করেন ২০ হেক্টর বনে, ৩০ হেক্টর বনে শাল কপিসের বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিয়েছেন সুব্যবস্থা, ১০ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করে তাতে ৫ হেক্টর মিক্স প্ল্যান্ট ও ২ হেক্টরে করেছেন হারবাল বা ঔষধি বনায়ন। আর বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির বনায়ন করেছেন ৩ হেক্টর জমিতে। তার নিজের বিটেও লেগেছে বদলের ছোয়া, ৩ হেক্টর জমিতে করেছেন এনরিচমেন্ট ও ২ হেক্টর দখলমুক্ত করে তাতে সুফল বনায়ন করেছেন।

বাংলাভূমি’র এক সাক্ষাতকারে বিট কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, শিমলাপাড়া ৪৫৪০ একরের বিট হলেও মানব দখলে রয়েছে প্রায় ৮০০ একর। এই বিটের মাত্র ৭ জন কর্মী নিয়ে বিগত সাত মাসে দশ হেক্টর জমি দখলমুক্ত করতে সামর্থ হয়েছি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একান্তভাবে বুঝিয়ে উদ্ধারকৃত জমিতে করেছি সুফল বনায়ন। শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা সর্বক্ষণ আমাকে সাহায্য ও দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। বিটের কর্মচারীবৃন্দ আমাকে প্রেরণা ও সর্ব্বোচ্চ সহযোগীতা করেছেন।
তিনি আরো বলেন, জীববৈচিত্র রক্ষা এখন একটি গেøাবাল ইস্যু, মানুষের পাশাপাশি বনের জীব-জন্তুদের রক্ষা করতে না পারলে আমরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারব না। সরকারের যুগোপযোগী প্রকল্প ‘সুফল’ বনায়নের ফলে বনে আমলকি, হরিতকি, বহেরা, জাম, জলপাই, গর্জন, অর্জুন, হলদি, শীল কড়ই, শিমুল ও অরহরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী বান্ধব গাছ লাগানো হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও পাহারা নিশ্চিত করতে পারলে গাছ বড় হয়ে ফল দিতে শুরু করলেই আশা করা যায় এই বন ফিরে পাবে তার আসল চেহারা।