এম.আর করিম
গফরগাঁও প্রতিনিধি ॥
ময়মনসিংহ: স্বাস্থ্যবিধি মেনে ষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে শুরু হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ বছর গফরগাঁও উপজেলায় মোট ১৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে গফরগাঁও থানায় ৬টি এবং পাগলা থানায় ১০টি।
গতকাল রাত ১০ টায় দেবীর আরাধনার মধ্যে দিয়ে পুজার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২৬ শে অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
প্রতি বছর ব্যাপক ধুমধামের মধ্যে দিয়ে পুজা শুরু হলেও এ বছর করোনা ভাইরাসের কারনে এ আয়োজন সীমিত করা হয়েছে। তদুপরি করোনা ভাইরাসের মধ্যেও মন্ডপগুলোতে দেখা মেলে নান্দনিকতার ছাপ। আরো রয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা।
উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি এবং ঢোলের শব্দে মাতৃবন্দনার মাধ্যমে পুজার মন্দির এবং মন্ডপগুলোতে নানা আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিয়েছেন ভক্তরা।
পঞ্জিকা মতে, এবার দেবীর আগমন দোলায় হওয়ায় পুজা পরবর্তী সময়ে মহামারীর আশংকা করছেন ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা। তবে দেবীর গজে যাত্রা ভাল ফল নির্দেশ করে। দেবীর কাছে ভক্তদের একটাই প্রার্থনা, পৃথিবীর সমস্ত মানুষ যেন করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকে।
গফরগাঁও পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জানান, গতবছর ২২ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হলে এ বছর ১৬টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, করোনা সংক্রমন পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি মাথায় রেখে এ বছর অনেক মন্ডপে পূজা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। সরকার নির্দেশিত নিয়ম মেনে এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পূজার যাবতীয় অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে। প্রশাসনের নিরাপত্তার বাইরে ও আমরা সতর্কতা মূলক বেশ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।
গফরগাঁও থানা অফিসার ইনচার্জ অনুকূল সরকার জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে এবং মুখে মাস্ক ব্যবহার করে দেবীকে ভক্তরা অঞ্জলি দিতে পারবে। জন সমাগম করা যাবে না এবং রাত ৯টার পর মন্দিরের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। ভক্তিমূলক গান ছাড়া উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো যাবে না। বিজয়া দশমীতে কোন শোভাযাত্রা করতে পারবে না।

