আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥ দীর্ঘ সংঘাতময় পরিস্থিতির পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ বর্তমানে কিছুটা শান্ত রূপে ফিরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের সঙ্গে বিরোধী দলের নেতাদের বৈঠক চলছে। বৈঠকের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি গৃহীত হবে।
বিরোধী দলের নেতাদের একাংশ আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকতে উপদেশ দিচ্ছেন। কিন্তু বিপ্লবের সপক্ষে ও প্রেসিডেন্টের বিপক্ষে স্লোগান অব্যাহত আছে। বিক্ষোভকারীরা একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে এবং একাংশ সহিংসতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইছে। সহিংস দলটির ওপর থেকে নেতারা ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন। ধারণা করা হচ্ছে ডানপন্থি উগ্র জাতীয়তাবাদীরা যারা প্রাভি (ডান) সেক্টর নামে পরিচিত, তারাই মূলত সহিংসতা চালিয়ে যেতে তৎপর।
দলটির নেতাদের একজন আন্দ্রি তারাসেঙ্কো। এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি)কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, বিপ্লব ছাড়া তাদের হাতে এ মুহূর্তে আর কোন উপায় খোলা নেই। দেশটিতে এরই মধ্যে আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য বিশেষ আইন পাস হয়েছে। আন্দ্রির বক্তব্য, এমন দমনপীড়ন চলতে থাকলে তারা গেরিলা যুদ্ধে নামবেন।
এরই মধ্যে এলভিভ শহরে বিক্ষোভকারীরা শহরের গভর্নর ওলেগ সালোকে রাস্তায় চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। ওলেগ সালো পরবর্তীতে তার পদত্যাগপত্র অস্বীকার করেছেন। এতে লেখা ছিল- আমাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দানের জন্য অনুরোধ করছি। সালো বলেন, এই পদত্যাগ পত্র বৈধ নয়, কেননা আমাকে চাপের মুথে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচ ইইউ-র একটি অর্থনৈতিক প্রস্তাব উপেক্ষা করার পর তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। কেননা অধিকাংশ ইউক্রেনবাসী রাশিয়ার চেয়ে ইইউ’র সাথে অধিক সখ্য রাখতে ইচ্ছুক, অপরদিকে প্রেসিডেন্ট এর বিপরীত মত ধারণ করেন।
নভেম্বর থেকে চলে আসা এ বিক্ষোভে ইতোপূর্বে কেউ নিহত না হলেও গত ২২ জানুয়ারি আন্দোলনবিরোধী আইন প্রয়োগের কালে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে ২ জন, মতান্তরে ৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন। এরপর আন্দোলন আরও বেগবান হলেও বর্তমানে চলমান আলোচনার কারণে উত্তেজনা কিছুটা স্তিমিত আছে।

