ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

প্রকাশিত: January 26, 2014 | সময়: 2:42 am

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ পেয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। শিক্ষা ও সাহিত্যের জন্য ভারতের তৃতীয় বেসামরিক সর্বোচ্চ সম্মাননা পদ্মভূষণ পেয়েছেন তিনি।বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ পেয়েছেন। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে এটি ঘোষণা করা হয়। শনিবার ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, এ বছর ‘পদ্মবিভূষণ’ পেয়েছেন দুজন, ‘পদ্মভূষণ’ ২৪ জন এবং ‘পদ্মশ্রী’ পেয়েছেন ১০১ জন। এর মধ্যে শিক্ষা ও সাহিত্যে পদ্মভূষণ পেয়েছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। পদ্মভূষণ ভারতের তৃতীয় বেসামরিক সর্বোচ্চ সম্মাননা।

পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হওয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান রাতে বলেন, ‘আগে এ বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না। তাই এটি আমার কাছে অপ্রত্যাশিত আনন্দের সংবাদ। আমি খুব সম্মানিত বোধ করছি। ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক। ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৬২ সালে তিনি পিএইচডি করেন। তাঁর পিএইচডির অভিসন্দর্ভের বিষয় ছিল ‘ইংরেজ আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা (১৭৫৭-১৯১৮)’। ১৯৬৪ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরাল ফেলো হিসেবে বৃত্তি পান। ১৯৬৯ সালের জুন মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের রিডার হিসেবে যোগ দেন। তরুণ বয়সে তিনি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। এ ছাড়া শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে গঠিত গণ-আদালতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান দেশে-বিদেশে এর আগেও বিভিন্ন পদক ও পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে আছে: বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, আনন্দ পুরস্কার, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি.লিট ইত্যাদি।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের গবেষণা, মৌলিক প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা ও সম্পাদিত বহু গ্রন্থ রয়েছে। আনিসুজ্জামান (জন্ম ১৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৩৭) বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাঙলা ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক। তিনি প্রত্যক্ষভাবে ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিযে তাঁর গবেষণা উল্লেখযোগ্য।