প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ছে

প্রকাশিত: February 5, 2014 | সময়: 11:06 am

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারীকরণের আইনি জটিলতা দূর করতে বর্তমান আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত বেসরকারীকরণ আইনে রুগ্ণ কারখানা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে হস্তান্তর পর্যন্ত সব আইনি ক্ষমতাই থাকবে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এতে বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আসবে। প্রাইভেটাইজেশন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, বর্তমান বেসরকারি আইন-২০০০ অনুসারে ‘সরকারি শিল্প বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান’ অর্থ এমন কোনো শিল্প বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন স্থাপিত, প্রতিষ্ঠিত, পরিচালিত বা গঠিত করপোরেশন, ট্রাস্ট, বোর্ড, কম্পানি বা অন্য যেকোনো ধরনের প্রতিষ্ঠান। এমন কোনো শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কোনো অংশ, সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা, স্বত্ব, স্বার্থ বা পরিচালনা কিংবা ব্যবস্থাপনা কোনো ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা মানেই বেসরকারি খাতে সরবরাহ করা। এ ক্ষেত্রে যে মন্ত্রণালয়ের আওতায় শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে, সে মন্ত্রণালয় থেকে ক্রেতাকে বুঝে নিতে হবে।

বর্তমান আইনে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বেসরকারি খাতে ছাড়তে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। অনুমোদন না পেলে কারখানাটি বেসরকারি খাতে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার আইনি ক্ষমতা কমিশনের থাকে না। এরপর তা কমিশনের বোর্ড সভার অনুমোদন নিয়ে রুগ্ণ কারখানাটির বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এরপর দরপত্রের মাধ্যমে ক্রেতা নির্বাচন করা হয়। বেসরকারীকরণের ধারাবাহিকতায় এরপর বিক্রির মূল্য উল্লেখ করে তা অর্থনৈতিক ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন নিতে হয়। এ পর্যায়ে নতুন ক্রেতা মোট মূল্যের ২৫ শতাংশ অর্থ পরিশাধ করে। যে মন্ত্রণালয়ের আওতায় রুগ্ণ কারখানাটি পরিচালিত হয় সে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন মালিককে এরপর কারখানাটি বুঝিয়ে দিতে কমিশন অনুরোধ করে।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, রুগ্ণ কারখানা বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়ার শুরুতে সম্মতি জানালেও বেসরকারীকরণের একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নানা অজুহাতে কারখানা বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব করে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা কারখানাটি বুঝিয়ে না দিয়ে আপত্তি জানিয়ে থাকে। এতে দীর্ঘদিনের বেসরকারীকরণের কাজটি স্থগিত হয়ে যায়। অতীতে শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক কারখানা নিয়ে এ-জাতীয় জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে কারখানাগুলো লোকসানি হলেও তা শেষ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে সরবরাহ সম্ভব হয়নি।

সংশোধিত আইনে তিন মাস পর পর বিভিন্ন সরকারি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে রুগ্ণ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। আবার পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে ক্রেতাকে কারখানাটি কমিশন থেকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতে সরবরাহে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কোনো ধরনের আপত্তি বা হয়রানির আইনি সুযোগ থাকছে না।

অতীতে রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা কিনে তা অনেকে শিল্প হিসেবে ব্যবহার না করে বাণিজ্যিক প্লট আকারে নানা ব্যবসা করেছে। বর্তমান আইন শিল্প-কারখানার জায়গায় অন্য কিছু করার সুযোগ থাকছে না। আবার কোনো কোনো মালিক রুগ্ণ প্রতিষ্ঠান উৎপাদন চালিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়ে কারখানা পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখেন। সংশোধিত আইনে এ ধারা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘শিল্প-কারখানা শুধু শিল্প হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে। ব্যর্থ হলেও দুই বছরের বেশি সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা যাবে না। এমন হলে প্রাইভেটাইজেশন কমিশন কারখানার মালিকানা বুঝে নেবে। নতুনভাবে আবারও ক্রেতার কাছে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে সরবরাহের ক্ষমতা পাবে।’

এ ছাড়া সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ক্রেতাকে কারখানা পরিচালনায় গ্যাস, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে কমিশন। ক্ষেত্রবিশেষে বিপণনকাজেও পরামর্শ দেবে।

প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সংশোধিত আইন প্রণয়ন কমিটির সদস্য এবং উপপরিচালক ফজলুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিগত দিনে বেসরকারীকরণ প্রক্রিয়া যথাযথ আইনের অভাবে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছে। আশা করছি, সংশোধিত আইনে এসব বাধা দূর হবে।’ বেঙ্গলিনিউজটোয়োন্টিফোর.কম ডেস্ক