স্টাফ রিপোর্টার
বন রক্ষার দায়িত্বে থাকে যারা, তারাই যেন বন ধ্বংসের নেপথ্য কারিগর। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের কাচিঘাটা রেঞ্জের জাথিলা বিটে উডলট বাগানের আড়ালে চলছে গাছ কাটা ও অবৈধ ঘরবাড়ি নির্মাণের মহোৎসব। চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে অনুসন্ধানে—উপকারভোগীদের দিয়ে বন ধ্বংসের পাশাপাশি, ঘুষের বিনিময়ে এসব অনিয়মে সহায়তা করছেন সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তারাও।
জানা গেছে, ২০১০—২০১১ অর্থবছরে জাথিলা বিটে ৮৭.৯২ হেক্টর জমিতে উডলট বাগানের চারা রোপণ করা হয়। বন সংরক্ষণের অংশ হিসেবে বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে এসব বাগান উপকারভোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ২০২২—২০২৩ সালে তৃতীয় পর্যায়ের ৯০টি লটের গাছ বিক্রির তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট।

উপকারভোগীরা গাছ বিক্রির সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুধু গাছই কাটেনি, আশপাশের গজারি ও শালবনও সাবাড় করেছে। এখানেই শেষ নয়, বনের জমিতেই নির্মাণ করছে ঘরবাড়ি। অথচ চুক্তির শর্তানুযায়ী, উপকারভোগীরা বাগানের জমিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না, জমি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না, এমনকি জমি সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। চুক্তি ভঙ্গ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও, তা কার্যত বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা। জাথিলা বিট কর্মকর্তা শরিফ উর রহমান খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে—উপকারভোগীদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের উদ্দেশ্যে ব্যাংকের চেক বইয়ের পাতা সংগ্রহ করা হয়েছে। উপকারভোগীদের টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হলে তিনি তা সহজেই উত্তোলন করতে পারেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপকারভোগীদের তালিকায় ঘর নির্মাণ ও গাছ কাটার অভিযোগ রয়েছে রূপবান, ইসমাইল, মাজেদা, সোহেল, ইমতিয়াজ আহমেদ, আনোয়ারা বেগম, মালেকা বেগম, নিয়ত আলী, হোসেন মিয়া, শামসুল হক, সিরাজ মিয়া, জৈনুদ্দিন মিয়া, রুপ বানু, জোসনা বেগ, ঠান্ডো মিয়া, কিসমত, তফিজ, মাজেদা সহ অন্তত ৩০ জন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের কাছ থেকে ‘চাপানের খরচ’ বাবদ জনপ্রতি সাড়ে চার হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কাচিঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, উপকারভোগীদের বিরুদ্ধে গাছ কাটা বা ঘরবাড়ি নির্মাণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তাদের অর্থপ্রাপ্তি বন্ধসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, জাথিলা বিট কর্মকর্তা শরিফ উর রহমান খান চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পরিবেশ সচেতনরা বলছেন, বন রক্ষার নামে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে বন ধ্বংস অমোচনীয় হবে। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

