গাইবান্ধায় এক হাটে প্রায় ৩ কোটি টাকার শুকনা মরিচ বিক্রি

প্রকাশিত: April 20, 2025 | সময়: 8:01 am

ওমর ফারুক রনি, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

চরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মরিচ চায় হওয়ার কারণে জমে ওঠে একমাত্র গাইবান্ধার ফুলছড়ির মরিচের হাট। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবারে সূর্য ওঠার পরপরই হাটে আসতে থাকে মরিচের বস্তা। এসব মরিচ সবই চরঅঞ্চলের। লাল টুকটুকে শুকনো মরিচের সারি সারি সাজানো বস্তায় দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে হাটের চারদিক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক। দুপুরের আগ পর্যন্ত এভাবে চলে বেচাকেনা।আজ শনিবার হাটে ৩শ’ থেকে ৪শ’ মণ শুকনা মরিচ বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিমণ শুকনা মরিচ ৯ হাজার ৫শ‘ থেকে ১০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

গাইবান্ধার ফুলছড়িসহ চারটি উপজেলার ১৬৫টি চরাঞ্চলের জমিতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ মরিচ উৎপাদিত হয়। চরাঞ্চলের এই মরিচ কেনাবেচার একমাত্র হাট হচ্ছে ফুলছড়ির যমুনা নদী সংলগ্ন মরিচের হাট। চরাঞ্চল থেকে কৃষকরা নৌকা অথবা ঘোড়ার গাড়িতে বস্তা ভর্তি মরিচ নিয়ে এসে এখানেই বেচাকেনা করে থাকেন।

জানা গেছে, ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত পুরাতন উপজেলা হেডকোয়াটার্স মাঠে ২০০৪ সাল থেকে এই মরিচের হাট বসে। দেশের বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধি যেমন প্রাণ, এসিআইসহ ঢাকা, বগুড়া, সান্তাহার দিনাজপুর, জয়পুরহাট থেকে বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা এসে এ হাট থেকে মরিচ কিনে নিয়ে যান।

শনিবার সকালে দেখা যায়, নৌকা এবং ঘোড়ার গাড়িতে করে ফুলছড়ি উপজেলার টেংরাকান্দি, মোল্লারচর, খোলাবাড়ি, ফজলুপুর, এরেন্ডবাড়ি, উড়িয়া, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল এবং জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জের বকশিগঞ্জের কয়েকটি চর থেকে কৃষক ও পাইকাররা মরিচ বিক্রি করতে এসেছেন। লাল টুকটুকে মরিচে সাজানো বস্তায় কাণায় কাণায় ভরে উঠেছে হাট। ভোর থেকে হাট শুরু হওয়ার কারণে মরিচ বিক্রি করতে আসা মরিচ চাষিরা হাটবারের আগের রাতে চর থেকে নৌকায় করে মরিচ নিয়ে ফুলছড়ি হাটে অবস্থান করেন। কৃষকরা জানান, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভরা মৌসুমে মরিচ বেশি বিক্রি হয়। অন্য সময়ে বিক্রি হয় কম।

ফুলছড়ি ইউনিয়নের গাবগাছি গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান এবছর ছয় বিঘা জমিতে বগুড়ার দেশি জাতের লম্বা মরিচ লাগিয়েছেন। তার ওই জমিতে পরিমাণ মতো গোবর ও সার ব্যবহার করার ফলে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, মরিচ চাষ করতে প্রায় এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই ছয় বিঘা জমি থেকে কাঁচামরিচ উৎপাদন হবে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ মণ। বর্তমান বাজারে এক মণ কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ টাকা দরে। আবার ওই মরিচই যদি শুকানো যায়, তাহলে ১৫ থেকে ১৮ মণ শুকনো মরিচ হবে।গজারিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিহাদুর রহমান মওলা বলেন, হাইব্রিড, বগুড়া ও স্থানীয় জাতের শুকনো মরিচ বেশি আসে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কোম্পানির প্রতিনিধিরাও এ হাট থেকে মরিচ কিনে নিয়ে যান।

ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিন্টু মিয়া বাংলাভূমিকে বলেন, ফুলছড়ি উপজেলায় ৯শ ৩৬ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫০০ মেট্রিক টন। এবার অনুকূল আবহাওয়া ও চরের উর্বর মাটিতে দিন দিন মরিচের চাষ বাড়ছে। চরের লোকজন মরিচ চাষে ঝুঁকছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শসহ সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বলে জানান তিনি।