গংগাচড়ায় সাবেক চেয়ারম্যান মারুফের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ জনতা: গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

প্রকাশিত: April 20, 2025 | সময়: 2:23 pm

রংপুরের গংগাচড়া থেকে ফিরে,নুর আলম সিদ্দিকী মানু :

রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান মো. মারুফকে গত ১০ এপ্রিল একটি প্রশাসনিক আদেশে ইউএনও’র মাধ্যমে পদ থেকে অপসারণ করা হয়। এর ঠিক দুই দিন পর, ১২ এপ্রিল, মারুফ স্বপরিবারে এলাকা ছেড়ে গোপনে পালিয়ে যায়। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে যে ব্যক্তি ছাত্র জনতার আন্দোলনে হামলা ও হত্যার মতো গুরুতর মামলার আসামি, তিনি এতদিন প্রশাসনের নাকের ডগায় কিভাবে পরিষদের দায়িত্ব পালন করে গেছেন?

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এনসিপির জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ৮ এপ্রিল একটি লিখিত আবেদন জমা দিলে, পরদিন ৯ এপ্রিল গংগাচড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান মারুফকে অপসারণের নির্দেশ সংবলিত চিঠি জারি করা হয়। প্রশাসনিক আদেশ কার্যকর হয় ১০ এপ্রিল। কিন্তু বিস্ময়করভাবে ৫আগষ্ট পরবর্তী প্রশাসন তাকে অপসারণ না করে হত্যা চেষ্টা ও হত্যা মামলার আসামি থাকা সত্ত্বেও মারুফ পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন।জনগণের অভিযোগ, মারুফ গংগাচড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন। তিনি ছাত্র জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার পরও প্রশাসনের নির্লিপ্ততা সচেতন নাগরিকদের হতাশ করেছে। জনগণ প্রশ্ন তুলছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন এতদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হলো?বর্তমানে বেতগাড়ী ইউনিয়নসহ গোটা গংগাচড়া জুড়ে সাধারণ মানুষ চরম ক্ষোভে ফুঁসছে। সচেতন নাগরিক সমাজ এবং আন্দোলনকারীরা দ্রুত মারুফকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, “এমন অপরাধীর জায়গা সমাজে নয়, জেলখানায়। আর শাস্তি হওয়া উচিত এমন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর জনগণের রক্ত নিয়ে খেলা করার সাহস না পায়।”

জনগণের জোরালো দাবি মারুফকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে তার অপরাধের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, প্রয়োজনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।