রোকুনুজ্জামান খান
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের তিন সহস্রাধিক বনকর্মী দীর্ঘ ৩৬ থেকে ৩৯ বছর পর্যন্ত একটানা একই পদে কর্মরত থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনো পদোন্নতি পাননি। এতে তারা একদিকে যেমন দাপ্তরিকভাবে অবহেলার শিকার, অন্যদিকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনেও পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
ফরেস্টার, ফরেস্ট গার্ড, নৌকা চালক, বাগান মালিসহ বিভিন্ন পদে নিয়োজিত এসব কর্মীরা প্রতিকূল পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির কোন সুযোগ না পাওয়ায় তারা গভীর হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন।
সম্প্রতি পদোন্নতি বঞ্চিত এই বনকর্মীরা মাননীয় উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় বরাবর একটি আবেদন জানিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। আবেদনপত্রে তারা উল্লেখ করেন, ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে চাকরিতে যোগদান করলেও অধিকাংশ কর্মী এখনো প্রথম পদেই কর্মরত। ইতোমধ্যে অনেকে হতাশার মধ্যেই অবসর গ্রহণ করেছেন।
তাদের অভিযোগ, ন্যায্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির যোগ্যতা থাকার পরও বন প্রশাসনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অজুহাতের কারণে পদোন্নতির পথ দীর্ঘদিন ধরে রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন সিনিয়র কর্মীদের জুনিয়রদের অধীনে কাজ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বনকর্মীরা বলেন, ঝুঁকিভাতা না থাকা সত্ত্বেও তারা সার্বক্ষণিক টহল দিয়ে সমুদ্র উপকূল, দুর্গম অঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় দেশের বন ও জীববৈচিত্র রক্ষা করে চলেছেন।
তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মাননীয় উপদেষ্টা আজীবন মানবাধিকার, পরিবেশ ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করে আসছেন। তাই তাঁর নিকট এই দুর্দশাগ্রস্ত বনকর্মীদের পক্ষ থেকে মানবিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মাননীয় উপদেষ্টার সদয় দৃষ্টি ও উদ্যোগে অবিলম্বে এই দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিরসন হবে এবং তিন সহস্রাধিক পদোন্নতি বঞ্চিত বনকর্মী তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ফিরে পাবেন।

