বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সন্ত্রাসী ও জঙ্গিকে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা উল্লেখ করে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো উন্নয়নে নতুন করে ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার পুলিশ সদস্য ও বাকিদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেয়া হবে।
শনিবার সকালে রাজশাহীতে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের শিক্ষানবীস সহকারী পুলিশ সুপারদের শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ভাষণকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিগত পাঁচ বছরে সরকার পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক করে তুলেছে এবং একই সময়ে ৬১৪টি ক্যাডার পদসহ ৩১ হাজারেরও বেশি নতুন পদ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, দেশের সকল থানাকে (পুলিশ স্টেশন) আরো কার্যকর সেবাকেন্দ্র করতে এগুলোর সংস্কার করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সারদাসহ দেশের সব পুলিশ কেন্দ্রকে আধুনিক করা হয়েছে। এ ছাড়া জনগণ যাতে ভালো সেবা পায় সে লক্ষ্যে দেশের সকল পুলিশ কেন্দ্র সংস্কার করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জনগণের আস্থা অর্জনে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সে ক্ষেত্রে পুলিশকে অবশ্যই নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও পেশাগত দক্ষতা বজায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, সমাজের নারী, শিশুসহ বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আপনাদের আচরণ হতে হবে সংবেদনশীল। এ ছাড়া জনগণের সমস্যাকে একান্ত আন্তরিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ কঠোর হাতে দমন করেছে এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে।
গত কয়েক বছরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দল যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে তখন রাজনৈতিক দলগুলোর একটি অংশ এসব জঙ্গিদের আস্কারা দিয়েছে এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করেছে।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা শুরু হয়েছে। আমরা সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন করে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তঋণ শোধ করবো। দেশকে কলঙ্কমুক্ত করবো।
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থকে বিনিয়োগ হিসেবে বিচেনা করে।
তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তা ও অপরাধের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশের আধুনিকায়ন করেছি। উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান ও তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
এ সময়ে অন্যান্যের মধ্যে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার এবং একাডেমির অধ্যক্ষ নাঈম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ ও প্যারেড পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি সেরা শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন। তিনি পুলিশ অফিসার মেস প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। বেঙ্গলিনিউজটোয়ো়ন্টিফোর.কম

