মাহাবুর রহমান ::
প্রথম আলো ফোটার সাথে সাথে জীবিকার তাগিদে জীবন সংগ্রামে নিজেদের বিলিয়ে দেন শ্রমজীবীরা। বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য সংগ্রহে জীবন যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে দেখতে কাটে তাদের দিন। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে উপার্জিত সামান্যতেই প্রশান্তি খোঁজেন অনেকে কেউবা আবার সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম আপন জনদের হারিয়ে ফেলছেন দীর্ঘশ্বাস। দিন শেষে পেট পুড়ে খেতে না পারলেও অল্পতে তুষ্ট থাকেন তারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি এভাবেই চলে তাদের জীবন সংসার। বল ছিলাম গাজীপুরের মাওনা উড়ালসেতুর নিচে কয়েকজন রিকশাচালক কামরুল, হারুন ও খাইরুল এবং কাপাসিয়া উপজেলার ফাতেমা, কাঠুরে হাবিবুল্লাহ হাবি, রিকশাচালক কালাম ও ময়মনসিংহ থেকে দিনমজুর ধান কাটা রফিকুলের কথা। তারা জানিয়েছেন বেঁচে থাকার তাগিদে জীবন সংগ্রামে বাস্তবতা মেনে নিয়ে দারি দারিদ্রতার সাথে সংগ্রাম করে চলে যাচ্ছে তাদের দিনরাত। তবুও স্বপ্ন দেখেন সফলতার। এদের প্রত্যেকের টেনেটুনে চালাতে হয় সংসার।
কাপাসিয়া উপজেলার বাড়িষাব ইউনিয়নের আবাসন প্রকল্পের ৪ নম্বর ব্যারাকের ৪ নম্বর রুমে বসবাস করেন ফাতেমা বেগম। স্বামী হাড়া একমত্র ছেলে, ছেলের বউ ও নাতিকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে এখানেই তিনি ১৯টি বছর পার করেছে। হঠাৎ ছেলে রুবেলের মৃত্যুতে হতাশার পানি যেন টলমল করছে ফাতেমার চোখে মুখে। তার প্রতিটি নিঃশ্বাসে বেজে উঠছে করুণ সুর। ফাতেমা জানায়, একমাত্র ছেলের উপার্জনেই চলতো তাদের সংসার। চার সদস্যে পরিবার চালিয়ে নিতে ছেলের সাথে যোগান দিতে কখনো তিনি মানুষের কাছে হাত পেতে কখনো মানুষের বাড়িতে কাজ করতেন। দু’জন মিলে যা আয় করতেন তা দিয়ে সংসার চালিয়ে মাস শেষে অবশিষ্ট কিছুই থাকে না তাদের। গত চার দিন আগে ছেলে মারা যাওয়ার পর ১৫ বছর বয়সী নাতি রিদয় ও পুত্রবধু কে নিয়ে হতাশায় ভেঙে পরেন ফাতেমা। কি করবে, কি খাবে, কিভাবে চলবে তার সংসার এস ভেবেই অঝোর কাঁদছেন তিনি।
ধান কাটা শ্রমিক দিনমজুর রফিকুল বলেন, ৯ সদস্যের পরিবার তার। সংসারে উপার্জন কারি হিসেবে সে এবং তার বড় ছেলে রাসেল ছাড়া কেউ নেই। বড় ছেলের বয়স মাত্র ১৭ বছর। টানাটানির সংসারে পড়াশোনার পাশাপাশি মাঝে মধ্যে ও ধান কাটার মৌসমে বাবার সাথে পরিবারের হাল ধরনে। রাসেলের বড় আরও তিন বোন রয়েছে। তারা সকলেই পড়াশোনা করেছে। রাসেলও বাবার সাথে ধান কাটার কাজ করতে এসেছেন কাপাসিয়ায়। ছেলে মেয়ের পড়াশোনা, চিকিৎসা খরচ ও সংসারে খরচ চালিয়ে মাস শেষে আয় হিসেবে অবশিষ্ট কিছুই না থাকলেও সৃষ্টি কর্তার শুকরিয়া আদায় করেছেন এবং প্রশান্তিময় তৃপ্তি পান বলে জানান রফিকুল।
রিকশাচালক খায়রুল ও কামরুল দু’জনেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আল্লাহ ভালো রাখছে। সারাদিন তারা ভাড়ায় রিকশা চালান। তবে তাদের কোনো অভিযোগ নেই কারোপ্রতি। বাস্তবতা মেনে নিয়ে সৃষ্টি কর্তার প্রতি তারা সন্তোষ্ট। খায়রুল বলেন, আল্লাহ আমাদের হয়তো ৫ তলা বাড়ি করার তৌফিক দেন নাই, তাই ৫ তালা বাড়ি করার স্বপ্নও দেখেন না। ছোট্ট ঘরে থাকেন, সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় করেন তা দিয়ে মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তন নিয়ে সুখে শান্তিতে জীবনযাপন করছেন। ৫ তালা ১০ তালায় যারা থাকে তাদের শান্তি নেই। বিভিন্ন সমস্যা লেগেই থাকে, তাদের কোনো সুখ শান্তি নেই বলে খায়রুল বলেন, আমরা গরিব হলেও আমাদের শান্তি আছে আমরা পরিশ্রম করে খাই।

