বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নীতিগত সহায়তা দেয়ার জন্য ‘জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ আইন’ তৈরি হচ্ছে। এ আইনের অধীনে বাংলাদেশের জাহান নির্মাণ ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের জন্য সার্বিক উন্নয়ন, পরিচালনা ও বিকাশের জন্য যাবতীয় সহায়তা দিতে একটি বোর্ড গঠন করা হবে। এ বোর্ডের মূলত কাজ হবে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে সার্বিক তত্ত্বাবধায়নকারী কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালন করা। এর পাশাপাশি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ইয়ার্ডের অনুমতি, জাহাজ বিভাজনের ক্ষেত্রে আমদানির জন্য এনওসি দেয়া, পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা, ইয়ার্ডের জাহাজ রিসাইক্লিং ফ্যাসিলিটি প্লান অনুমোদন দেয়া। এছাড়াও জাহাজের বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করবে। আজ শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ আইনের খসড়া নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা হতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের সেবা ছাড়াও ইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান, কাজের পরিবেশ উন্নত করা, পরিবেশসম্মত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা ছাড়াও এ শিল্পের বিকাশের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ কিংবা প্রস্তাাব পাঠানো হবে। প্রস্তাবিত আইনে একটি বোর্ড গঠন করা হবে। বোর্ডকে বেশ কিছু ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেয়া হবে। জানা গেছে, প্রস্তাাবিত আইনে বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান জাহাজ আমদানি, বিভাজন কিংবা কোনো কিছুর বিষয়ে উদ্যোগ নিলে তাকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদন্ড কিংবা সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
এছাড়াও ইয়ার্ডের অনুমতি গ্রহণ কিংবা নবায়নের ক্ষেত্রে অনাপত্তি নেয়ার সময় কোনো ধরনের মিথ্যা তথ্য দিলে তার জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদন্ড ও সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। পাশাপাশি বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কেউ যদি জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের উদ্দেশে ইয়ার্ড নির্মাণ করে, তাহলে তার জন্য সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদন্ড ও ৩০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। প্রস্তাাবিত আইনে একটি বোর্ড গঠন করা হবে। বোর্ডের প্রধান কার্যালয় হবে ঢাকায়। পদাধিকার বলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হবেন বোর্ডের চেয়ারম্যান। সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য নিয়ে বোর্ড গঠন করবে। বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে দেশের যে কোনো স্থানে এক বা একাধিক শাখা কিংবা ওয়ান স্টপ পয়েন্ট স্থাপন করতে পারবে। বোর্ড কাজের জন্য সরকারের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। সরকারের অনুমোদন নিয়ে বোর্ডের কার্যক্রম ও প্রশাসন চালানোর জন্য প্রবিধান তৈরি করতে পারবে।
বছরে বোর্ডের সভা হবে ৪ থেকে ৬টি। বোর্ড তার ক্ষমতা বলে এক বা একাধিক কমিটি গঠন করতে পারবে। বোর্ডের একজন মহাপরিচালক থাকবেন। সরকার মহাপরিচালক নিয়োগ করবে। মহাপরিচালক হবেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। মহাপরিচালক তার কাজের জন্য বোর্ডের কাছে দায়ী থাকবেন। জানা গেছে, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের সেবা ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য বোর্ডের একটি তহবিল থাকবে। এই তহবিলে অর্থ জমা হবে বিভিন্ন উৎস থেকে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সংক্রান্ত যাবতীয় ফি, সরকারের বাজেট, অনুদান ও ঋণ। জাহাজ আমদানিকারকদের লাইসেন্স বাতিলের ক্ষমতা বোর্ডের ওপর থাকবে। সরকারের অনুমোদন নিয়ে বোর্ড জাহাজ বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচার হবে।(আলোকিত বাংলাদেশ)

