টেকনাফে বিএনপি নেতার কাণ্ড

প্রকাশিত: May 20, 2025 | সময়: 1:54 am

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দাবিদার এক ব্যক্তি অভিনব ব্যবসা ফেঁদে বসেছেন। তিনি এলাকার ডাকসাইটে সব ইয়াবা ব্যবসায়ীকে দলে দলে বিএনপিতে যুক্ত করছেন এবং নানা পদ পদবিতেও ভূষিত করছেন তাদের।
তার এই দৃষ্টিকটু কর্মকান্ড নিয়ে গোটা এলাকা জুড়ে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে, সবচেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন বিএনপির তৃণমূল নেতা কর্মীরা। তাদের কারো কারো প্রতিবাদ ফেসবুকের পাতাতেও গড়ায়। সেই বাদ, প্রতিবাদ, ক্ষোভের বিষয়টি ইশারা ইঙ্গিতে তুলে ধরেছিলেন যুগান্তরের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, স্বনামধন্য সাংবাদিক আবুল কাশেম। পত্রিকার পাতায় নয়, নিজের টাইম লাইনে নেতার নাম ধাম ছাড়াই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের খুব সামান্যই প্রকাশ করেন তিনি। তাতেই তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন জামায়াত ঘরানার ওই বিএনপি নেতা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। জামাত থেকে বিতারিত ঐ বিএনপি নেতার নাম ওসমান গণি। তার সাঙ্গপাঙ্গ মানেই হলো ইয়াবা ব্যবসায়ী, চিহ্নিত অপরাধী, সমাজ বিরোধী লোকজন। সেই ইয়াবা চালানদার, পাইকার ব্যবসায়ী আর মানব পাচারকারী চক্রের অপরাধীদের নিয়ে প্রকাশ্যে মিছিল বের করেন, দাঁড়িয়ে যান মানববন্ধনে।
এতগুলো অপরাধী নিয়ে কথিত বিএনপি নেতার প্রকাশ্য মিছিল দেখে টেকনাফের মানুষজন অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকেন। হতাশ দলীয় নেতা কর্মীরা পর্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তারা জানান, মিছিলে অংশ নেওয়া ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে ২৫/৩০টি করে মামলা রয়েছে। তারা গা ঢাকা দিয়েই থাকে, অথচ বিএনপির নাম ভাঙিয়ে তাদেরকে প্রকাশ্যে দাঁড় করানোর ঘটনায় চরম ঘৃনা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী।

 

প্রতিবাদ বিবৃতি

অন্যদিকে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি আবুল কাশেম-্এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন তথাকথিত মানববন্ধনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন।
টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিয়ে কথিত বিএনপি নেতার নেতৃত্বে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করায় ক্ষোভে ফুসে উঠেছে টেকনাফবাসী।
জনমনে প্রশ্ন উঠেছে টেকনাফে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের টাকার বিনিময়ে বিএনপির পদ পদবীর বিক্রির দায়িত্বে কে এই জামায়াত থেকে বিতাড়িত দালাল। টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে উপজেলা অর্ধশতাধিক নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলার আসামী করে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে আজ বিএনপির যে দূর্নাম কুড়িয়েছ। সেটা আগামী জাতীয় নির্বাচনে কি পরিমাণ প্রভাব পড়বে সেটা সবার জানা। এ দালালের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দলের সুনাম টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে সময় বলে দিবে। সে তো টেকনাফ উপজেলার বিএনপির আসল সাংগঠনিক সম্পাদক কিনা আপনারা জেনে নিবেন। বিশেষ ব্যক্তির মৌখিক আদেশে কি পদের পরিচয় বহন করা যায়? সেটা দেখবেন অচিরেই। আপনি কি পরিমান নগদ টাকার বিনিময়ে অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন সেটা টেকনাফ উপজেলার জনগণ জানে। দালালদের অবস্থান সমাজে কোথায় সেটা ও সবার জানা।

 

যা লেখা হয় ফেসবুক টাইমলাইনে

‘সাধু সাবধান। ইনশাআল্লাহ বিএনপিতে কতজন ইয়াবা কারবারিদের টাকার বিনিময়ে পদপদবী বিক্রি করেছেন সবিস্তারে আসবে জাস্ট কিছু সময় অপেক্ষামাত্র ।

আপনি অনেক বড় পদের নেতা তাই না? আসেন না মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয়তা যাচাই করতে। ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের ব্যবহার করে ইতিমধ্যে যতই ষড়যন্ত্র করছেন, সব কিছুই সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় পন্ড হয়ে গেছে। মনে রাখবেন আপনার সেই কথোপকথনের অডিও ভাইরাল করতে বাধ্য করবেন না।’

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা জানিয়েছেন, ফেসবুকে এ পোস্টটি দেয়ার পর থেকেই দাপুটে ওই নেতা নানারকম ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন। তারা বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে চাই, আবুল কাশেম একজন সত্যনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ, অক্লান্ত পরিশ্রমী একজন সাংবাদিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত।
আমরা মনে করি, তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ভাবে চালানো নানা অপপ্রচার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাংবাদিকতাকে ভীতি প্রদর্শনের অপচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়।