এম এ কবির
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি :
এক সময় নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী এলাকা গুলোতে গাছে গাছে দেখা যেতো ছোট্ট, চঞ্চল বাবুই পাখির ঘরবসতি। খেঁজুর, তাল গাছে নিজের মত করে বাসা বানিয়ে থাকতো এই বাবুই পাখি। প্রায় প্রতিটি গ্রামের বাড়ির উঠান কিংবা পুকুর পাড়ের গাছে দেখা যেত এদের ঝাঁকে ঝাঁকে ঘোরাফেরা।
বাবুইপাখিকে অনেকে ‘শিল্পী পাখি’ বলেও ডাকতেন। নিজের ঠোঁট দিয়ে শুকনো পাতা, ছোট ডালপালা আর খড়কুটো সংগ্রহ করে দারুণভাবে বাসা বানিয়ে নিতো এরা। কেউ কেউ এ পাখিকে ঘরে পুষতেনও। সকালে উঠেই তাদের কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠতো চারপাশ।
কিন্তু সেই দৃশ্য এখন যেন কেবলই স্মৃতির পাতায়। পরিবেশ দূষণ, গাছ কাটা, কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার, এবং খাদ্যাভাবসহ নানা কারণে বাবুই পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। বিশেষ করে চোরাইভাবে শিকার কিংবা পাখি ধরে বিক্রি করাও এদের বিলুপ্তির পেছনে বড় কারণ বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, আগে এই পাখি ছাড়া গ্রাম চিন্তা করা যেতো না। অথচ এখন এক—আধটা দেখলেও সেটাই যেন বিরল সৌভাগ্য!
প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, পাখিদের টিকে থাকার জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। গাছপালা রক্ষা, কীটনাশক ব্যবহার কমানো ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলেই হয়তো আবারও ফিরে আসতে পারে সেই চেনা দৃশ্য।
নালিতাবাড়ীর মানুষের আল্লাহ তাআলার কাছে প্রত্যাশা—গ্রামের গাছে গাছে আবারও ফিরে আসুক শিল্পী বাবুই, যেন নতুন প্রজন্মও দেখতে পায় প্রকৃতির সেই সৌন্দর্য্য।

