তারেক-টুনির ছেলে দিব্যর হৃদয়স্পর্শী স্বাক্ষ্য
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিডনি দিয়ে জীবন বাঁচানো এক মায়ের প্রতি চরম অবহেলা ও অবিচারের বিরুদ্ধে এবার মুখ খুলেছে তারই সন্তান। আলোচিত কিডনি কাণ্ডে উম্মে সাহেদীনা টুনি ও তারেক দম্পতির সন্তান এবার বাবার অপপ্রচারের জবাব দিয়ে বলেছেন, “আমার আম্মু যা বলেছে, তা-ই সত্য।”
এক সাংবাদিক সম্মেলনে সন্তান দিব্য বলেন, “আমাকে দিয়েই আব্বু কয়েকজনের এসএমএস ডিলিট করিয়েছিল।” তিনি জানান, মায়ের দেওয়া বক্তব্যই সত্য এবং বাবার অনেক কথাই ছিল মিথ্যা। “আব্বু অনেকগুলো সত্য বলেছে, আবার অনেকগুলো উল্টোপাল্টা বড় বড় মিথ্যাও বলেছে। এটা আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে।”
দিব্য বলেন, “সত্য প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু এখন যে পর্যায়ে আব্বু বিষয়টিকে নিয়ে গেছে, তাতে আমি দুঃখিত।”
তিনি আরো জানান, শুরুতে বাবা-মায়ের সম্পর্ক ভালোই ছিল। বিশেষ করে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর প্রথম বছর তাদের সম্পর্ক ছিল খুবই শক্তিশালী। কিন্তু এরপর প্রতি বছর বড় বড় ঝামেলা হতো, যার সূচনা করতেন তার বাবাই।
তিনি বলেন, “আমার আম্মু সম্পূর্ণভাবে ডিভোটেড ছিলেন আব্বার প্রতি। আব্বু অসুস্থ হলেই আম্মুই পাশে থাকতেন, তিনিই সুস্থ করেছেন তাকে।”
দিব্য আরো বলেন, তিনি নিজেও সন্দেহ করতেন না। কিন্তু শেষ কয়েকদিনে বাবার আচরণ সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। একবার ‘রেহানা পারভীন’ নামের একজনের কল রেকর্ড মুছে ফেলতে বলেন তারেক, তখনই দিব্যের মনে সন্দেহ জাগে।
বাবার কথায় অপারেশনের প্রয়োজন নেই বলা বা টাকার বিষয়ে কথা বলার সময় দূরে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে দিব্য বলেন, “বাবার এসব কথায় আমার খারাপ লাগত। আমি কখনও আমার অনুভূতি প্রকাশ করতাম না। কিন্তু এসব বললে কষ্ট হতো।”
মায়ের সম্পর্কে বাবার বিভ্রান্তিমূলক কথা-বার্তায় সহপাঠিরা নানা কুটুক্তি করছে আমাকে ঘিরে। লজ্জায় আমি কারো সামনে মুখ দেখাতে পারছি না। ঘর থেকে বের হতে ইচ্ছে হয় না এখন, চরম হতাশায় কাটছে দিন।
সন্তানের এমন বক্তব্যে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যে নারীর কিডনি ও ভালোবাসায় বেঁচে উঠেছিলেন তারেক, সেই মানুষটিকেই বারবার অপমান ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে।
সন্তান দিব্যের সরল ও অসহায় বক্তব্য এখন সামাজিকভাবে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে– “মায়ের প্রতি বাবার এমন আচরণ আমি কল্পনাও করিনি।”
টুনির ছেলে দিব্যের এ বক্তব্য স্বজন, প্রতিবেশী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করছেÑ একজন কিডনি দানকারী নারীর প্রতি এমন অমানবিকতা কতদূর যাওয়া উচিত?
সত্য প্রকাশই হোক সমাধানের পথÑ এই দাবি জানিয়ে এখন টুনির পাশে দাঁড়াচ্ছেন অনেকেই।

