গাজীপুরে বৈষম্য মামলায় নয়া দিগন্তের সাংবাদিকের নাম!

প্রকাশিত: September 9, 2025 | সময়: 9:28 pm

> জেলার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিন্দা ক্ষোভ
স্টাফ রিপোর্টার:
জুলাই—আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র—জনতার ওপর হামলার এক মামলায় দৈনিক নয়া দিগন্তের মাল্টিমিডিয়া বিভাগের গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মো. মোজাহিদের নাম থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। জুলাই—আগস্ট মহা বিপ্লবের পক্ষের একজন সৎ ও প্রতিবাদী সাহসি সাংবাদিককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ মামলায় আসামী করায় বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতারাও।
গত ২৯ মে জনৈক সোহেল মিয়া বাদী হয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (বাসন আমলী) আদালতে এ মামলা নং—৩৪১/২০২৫ দায়ের করেন। আদালত মহানগরীর বাসন থানাকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্তকালে পুলিশ আসামীদের নাম—ঠিকানা যাচাই করতে গেলে সাংবাদিক মোজাহিদ জানতে পারেন তিনিও ওই মামলার আসামী। এসময় তিনি ফেসবুক লাইভে এসে বিষয়টি তুলে ধরলে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা তাৎক্ষনিকভাবে মামলার নথি থেকে বাদীর ঠিকানা সংগ্রহ করে সাক্ষাতকার নিতে সেখানে ছুটে যান। কিন্তু সাংবাদিকরা ওই ঠিকানার কোন অস্তিত্ব পাননি। মামলায় বাদী সোহেলের পিতার নাম ‘গিয়াস উদ্দিন, ঠিকানা— তিন ভাই ভিলা, দত্তপাড়া লেন, মোল্লা রোড, থানা— গাজীপুর সদর’ উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে এ ঠিকানার কোনো অস্তিত্ব মিলেনি। ঠিকানায় ডাকঘর হিসেবে ‘এরশাদ নগর’ উল্লেখ করা হলেও ওই ওয়ার্ডের স্থগিত কাউন্সিলর সফিউদ্দিন সফি জানান, তার এলাকা দত্তপাড়ায় ‘দত্তপাড়া লেন’ ও ‘মোল্লা রোড’ নামে কোন রাস্তা নেই।
এদিকে মামলার নথি থেকে বাদীর আইনজীবী মাসুদ পারভেজের মোবাইল নম্বর নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একজন সাংবাদিককে আসামী করা হয়েছে বিষয়টি আমি ইতিমধ্যেই জানার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে বলে দিয়েছি ওই সাংবাদিকের নাম বাদ দেওয়ার জন্য এবং আরো কোন নিরীহ—নির্দোষ ব্যক্তির নাম থেকে থাকলে তদন্ত করে বাদ দেওয়ার জন্য বলে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক মোজাহিদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বাদী এফিডেভিট দিতেও প্রস্তুত।’ তবে মামলার বাদীর সঠিক ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর তার জানা নেই বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে সাংবাদিক মোজাহিদকে বৈষম্যবিরোধী মামলায় আসামী করায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক ইউনিয়ন, গাজীপুরের সভাপতি ও গাজীপুর প্রেসক্লাবের অন্তবর্তী কমিটির দ্বিতীয় নির্বাহী সদস্য দেলোয়ার হোসেন, ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হেদায়েত উল্লাহ, গাজীপুর মহানগর সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি গাজী খলিলুর রহমান, টঙ্গী প্রেসক্লাবের সভাপতি আলহাজ¦ মো. মেরাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব চৌধুরীসহ জেলা ও উপজেলা সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক ফোরাম গাজীপুর জেলা সেক্রেটারি মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘মোজাহিদ সাংবাদিক ফোরাম শ্রীপুর উপজেলা সেক্রেটারি। তিনি সব সময় অন্যায্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তিনি আপসহীন ছিলেন, তাই তাকে অনেক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদ সরকারের সময় গাজীপুর সদর থানায় রাতভর তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। জুলাই—আগস্ট পরবর্তী সময়ে একটি মহলের বিভিন্ন অন্যায়—অপকর্ম আপসহীনভাবে তুলে ধরায় ওই মহলটি তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এই মামলা সেই ষড়যন্ত্রের অংশ।’
দৈনিক ইনকিলাবের শ্রীপুর উপজেলা প্রতিনিধি এমএ মতিন বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। অথচ সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায়। মোজাহিদের নামে দায়ের করা মামলাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।’
এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাছের বলেন, ‘সাংবাদিক মোজাহিদকে আমরা গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের মানুষ ও পেশাদার সাংবাদিক হিসেবেই জানি। তাকে কোন মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার সুযোগ নেই।’