শ্যামনগরে লবণাক্ত জমিতে সবুজ নীলিমায় একাকার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ 

প্রকাশিত: October 12, 2025 | সময়: 6:47 pm

সাতক্ষীরা প্রতিবেদকঃ
সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলায় লবণাক্ত জমিতে সবুজ নীলিমায় একাকার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরে দিন দিন বাড়ছে লবণসহিষ্ণু আমন ধানের আবাদ। এ ছাড়া নতুন নতুন এলাকায় লবণপানির চিংড়ি চাষের পরিবর্তে লবণসহিষ্ণু বিভিন্ন জাতের আমন ধানের চাষও বেড়েছে।
সুজলা সুফলা শষ্য শ্যামল সবুজ প্রান্তরে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ এ জনপদের সুন্দরবন বেষ্টিত এ উপজেলার প্রতিটি মাঠ। দিগন্ত জুড়ে যেদিকে তাকাই শুধু সবুজ আর সবুজ। নয়না ভিরাম মনমুগ্ধকর সবুজের সমারোহে চোখ যেন জুড়িয়ে যায়। প্রতিটি মাঠে এখন হিমেল হাওয়ায় দুলছে ধান গাছের সবুজ পাতা, আনন্দে দুলছে কৃষকের মন। সবুজ প্রকৃতি যেন সবাইকে মুগ্ধ করে তুলেছে। আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।
কৃষি বিভাগ বলছে, এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। অবৈধভাবে লবণ পানি উত্তোলন করে মাছ চাষ বন্ধ হওয়ায় ফলন আরও বাড়ছে বলে জানান কুষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে শ্যামনগর উপজেলায় ১৭,৭৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০০০ হেক্টর বেশি। প্রাকৃতিক দুর‌্যোগ না হলে এবার গতবছরের চেয়ে ফসল উৎপাদন বেশি হবে বলে আশাবাদী।
এছাড়া শ্যামনগরে কিছু কিছু লবণাক্ততা গ্রামে লবণ পানি মুক্ত হওয়ায় ধান, গম, সরিষার পাশাপাশি তরমুজ চাষও করেছিলেন অনেক কৃষক। শ্যামনগরের অনেক এলাকা নোনাপানি মুক্ত হিসেবে এ অঞ্চলের কৃষকরা এবার আমন চাষকে সৌভাগ্য হিসেবে মনে করছেন। এদিকে উপজেলার ইউনিয়ন ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়ায় কৃষকরা অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছেন।
উপজেলার কৈখালী গ্রামের কৃষক সামাদ গাজী বলেন, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার আমরা অধিকহারে আমন ধান চাষ করেছি। আশা করছি, এবার আমন ধানে বাম্পার ফলন হবে।
সেচ্ছাসেবী সংগঠন সুন্দরবন ইয়ুথ ফ্রেন্ডশীপের সভাপতি সোহেল রানা বলেন, শ্যামনগরে অনেক গ্রাম নোনা পানি মুক্ত হওয়ায় এখন শ্যামনগরের বেশিরভাগই গ্রামগুলোর মাঠ সবুজ বর্ণ ধারণ করেছে। চারিদিকে যেন সবুজের সমারোহ। যেদিকে তাকাই দৃষ্টি যেন জুড়িয়ে যায়। এবার বড় ধরনের ঝড় বা শীলা বৃৃৃষ্টি না হলে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে আমরা অনেক উপকৃত হব এবং বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব বলে মনে করছি।
দৈনিক বাংলাভূমি পত্রিকার প্রতিবেদনে রবিবার সরেজমিনে দেখা যায় শ্যামনগরে এখন যেমন আমন ধানের সবুজ ফসলের মাঠ তেমনি বিভিন্ন ফল গাছ আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা সহ নানা দেশীয় ফলে ভরপুর।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাজমুদা হুদা বলেন, উৎপাদন ভালো হওয়ায় এ উপজেলায় অনেক লবণ পানির মাছ চাষের ঘের বন্ধ হওয়ায় লবণসহিষ্ণু আমন আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিক ফলনের জন্য পরিমিত সার ব্যবহার, পানি সরাবরাহ জন্য খাল খনন এবং সার্বিক পরিচর্যায় কৃষকদের সচেষ্ট হতে আমরা সব সময়ই পরামর্শ দিয়ে আসছি। আমন ধান চাষে কৃষকরা যাতে লাভবান হতে পারেন এবং কৃষকরা যেন আমন চাষে কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা সার্বক্ষণিক নজর রাখছি। যেখানেই সমস্যা সেখানেই আমাদের উপস্থিতি এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।