স্টাফ রিপোর্টার ॥ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেও প্রাপ্তি নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট ছিল না এরশাদের জাতীয় পার্টি। মাত্র একজন মন্ত্রী আর দুই জন প্রতিমন্ত্রী পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তারপরও আশা ছিল প্রথম দফা মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে অপ্রাপ্তি কিছুটা হলেও ঘুচবে: বিশেষ করে চরমভাবে বঞ্চিত এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদেরের একটা গতি করবেন শেখ হাসিনা। কিন্তু সে আশায় গুঁড়েবালি। তাই আওয়ামী লীগের ওপর জাপার যতোটুকু আশা ও আস্থা ছিল সেটুকুও এখন মিলিয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
নানা নাটকের পর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সংসদে বিরোধী দল হয়েও মন্ত্রিসভায় থাকা নিয়ে ভালোই আলোচনার জন্ম দিতে পেরেছে এরশাদের জাতীয় পার্টি। অনেকে বলেন, নাটকের আড়ালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দর কষাকষি করেছেন এরশাদ। সেটা অনেকটা স্পষ্ট হয়েছে যখন শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় সন্তোষজনক স্থান না পেয়ে প্রকাশ্যেই বিষোদগার করেছেন জাপা নেতারা।
গত ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভা গঠনের পর জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘রিকশাওয়ালা, সাইকেলওয়ালারা মন্ত্রিত্ব পায় আর জাতীয় পার্টির মতো বড় দলকে মাত্র একটি মন্ত্রণালয় দেয়া হয়েছে।’
এরপরও মন্ত্রিত্ব পাওয়ার আশায় হাল ছাড়েননি জাপা নেতারা। সর্বশেষ ২৬ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর শপথ নেয়ার পর একেবারে হতাশ হয়েছেন তারা।
জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভা সম্প্রাসারণ করায় আওয়ামী লীগের ওপর জাতীয় পার্টির সন্দেহ আরো বেড়ে গেল। ফলে মন্ত্রিত্বের জন্য লালায়িত জাপা নেতারা এখন আর আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।
সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভা দ্বিতীয় দফায় সম্প্রসারণ করা হতে পারে। কিন্তু প্রথম দফাতে উপেক্ষিত হওয়ায় দ্বিতীয় দফার জন্য আর আশা জিইয়ে রাখতে পারছেন না জাপা নেতারা। আশাভঙের কারণে অনেকেই ভেতরে ভেতরে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আশা ছিল এবার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন জাতীয় পার্টি প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের ও মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।
এ বিষয় নিয়ে অবশ্য জাপা নেতারা আর প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাচ্ছেন না। রুহুল আমিন হাওলাদারকে অনেক চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। আর প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বললেন, ‘এ সম্পর্কে আমাদের কিছু বলার নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি যা ভালো মনে করেন তাই করেছেন।’
পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য এমএ সাত্তার ঢাকার বাইরে আছেন জানিয়ে বললেন, ‘এ সম্পর্কে আমার কিছু বলার নেই।’
উল্লেখ্য, বিএনপি ছাড়া গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনাসহ শপথ নেন ৪৯ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী। দেড় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করে এই সংখ্যা দাঁড়াল ৫১ জনে।
নির্বাচনকালীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এএইচ মাহমুদ আলী মন্ত্রী হিসেবে এবং নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম হিরু প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
দশম সংসদ নির্বাচনের পর গত ১২ জানুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব কাউকে দেয়া হয়নি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বর্তমানে শাহরিয়ার আলম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। ‘মন্ত্রীবিহীন’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

