মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জে প্রতিবার রমজানের শেষ দিকে ঈদের কেনাকাটা জমে উঠলেও এবার মুন্সীগঞ্জে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। রমজানের শুরু থেকেই শহরের প্রতিটি বিপণিবিতানে কেনাকাটার ধুম পড়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে উঠেছে প্রতিটি জামাকাপড়ের দোকান। বিক্রেতারা বলছেন, এবার অন্য কয়েক বছরের তুলনায় ক্রেতা ও বিক্রি বেড়েছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, ভিড়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিটি জামাকাপড়ে দাম বেশি রাখছেন ব্যবসায়ীরা।
আজ বুধবার(৪ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহর জামে মসজিদ মার্কেট, জেলা পরিষদ মার্কেট, আইয়ুব আলী সুপার মার্কেট, আফতাব উদ্দিন কমপ্লেক্স, জি এইচ সিটি সেন্টার, দেওয়ান প্লাজাসহ ৮-১০টি বিপণিবিতান তিন-চারটি জুতার শোরুম ঘুরে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। মার্কেট থেকে কোথাও কোথাও এই ভিড় ছড়িয়ে পড়ে সড়কের মধ্যেও। ক্রেতারা দর-কষাকষির মাধ্যমে তাঁদের পছন্দের ঈদ কেনাকাটা করছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন,অ ন্য বছর ১০-১৫ রমজানের পর কেনাকাটা বাড়তে থাকে। তবে এ বছর রোজা শুরুর দুই দিন আগে থেকে ঈদের
কেনাকাটার ধুম শুরু হয়েছে। ঈদ যত সামনে আসছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক আরও বাড়ছে। প্রতিদিন সকাল ৯টার পর থেকে মুন্সীগঞ্জ শহর, সদর উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষজন বিপণিবিতানগুলোয় ভিড় করছেন। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একটানা চলছে কেনাকাটা। মসজিদ মার্কেটের ভেতরে ঢুকতেই দুজন নারী ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা শহরের ইসলামপুর এলাকা থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করছিলেন তাঁরা। তাঁদের একজন জান্নাতুল ফেরদৌস যুবতী বলেন, মার্কেটে মানুষের অনেক ভিড়। পা ফেলার জায়গা নেই। রোজার প্রথম দুদিন মার্কেটে এসেছিলাম, তখনো অনেক ভিড় দেখেছি। দিন যত যাচ্ছে ভিড় মনে হয় ততই বাড়ছে। মেয়ে ও ছোট শিশুদের পোশাকের দোকানে রোজার মধ্যভাগ থেকে সাধারণত ভিড় বাড়ে।
তবে এবার সে ভিড় রমজান মাস শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই শুরু হয়েছে বলে জানালেন জেলা পরিষদ মার্কেটের নিউ মোল্লা গার্মেন্টসের স্বত্বাধিকারী জসিম মোল্লা। তিনি বলেন, দিন যত যাচ্ছে, বিক্রি ও ক্রেতার পরিমাণ ততই বাড়ছে। রোজার শুরু থেকে প্রতিদিন তিনি তাঁর দোকানে পাঁচ-ছয় লাখ টাকার জামাকাপড় বিক্রি করছেন। মাসের মাত্র শেষ হয়েছে। মানুষের হাতে টাকা এলে দিনপ্রতি বিক্রি দ্বিগুণ হতে পারে বলে ধারণা এ ব্যবসায়ীর। তিনি দাবি করেন, এবার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে কিছুটা দাম বেড়েছে। জেলা শহরের ১০টি মার্কেটে এবারের ঈদে বেচাকেনা ২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন মুন্সীগঞ্জ শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: এনামুল হক। তিনি বলেন, আমাদের সমিতির অধীনে ১০টি মার্কেটে এক হাজারের অধিক দোকান আছে। অন্যবার রমজানের মাঝামাঝি বিক্রি শুরু হলেও এবার রোজার আগে থেকে বিক্রির শুরু হয়েছে। প্রতিটি মার্কেটে খবর নিয়ে দেখেছি মানুষ স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে কেনাকাটা করছেন। বিক্রেতারাও খুব খুশি।

