স্পোর্টস ডেস্ক ॥ আসন্ন আইসিসি ‘টি-২০ বিশ্বকাপ ২০১৪’ -এর অফিশিয়াল ইভেন্ট সংয়ের (থিম সং) সুরটি নকল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতের একটি চলচ্চিত্রের গানের সুর নকল করে এটি তৈরি করা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে দুটো গান শুনে এমন মন্তব্য করে দুটি গান পাশাপাশি পোস্ট করছেন।
‘তিন ঘণ্টার অ্যাকশন সিক্সটিন সিক্সটিন—-চার ছক্কা হৈ হৈ বল গড়াইয়া গেল কই’ গানটি তৈরি করেছে বাংলাদেশের শিল্পী কলাকুশলীরা। চলচ্চিত্রের আইটেম সং ধরণের এ গানটির প্রশংসা করছেন অনেকে। তবে এরই মধ্যে শ্রোতাদের একটি অংশের ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে ‘চার ছক্কা হৈ হৈ’- কে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলছে সমালোচনা। অনেকের অভিযোগ, গানটি নকল করে আমাদের সংস্কৃতিকে অবমাননা করা হয়েছে। একই সাথে গানটির দৃশ্যায়নে ব্যবহৃত পোশাকও বাঙালিয়ানার ছোঁয়া না থাকায় এটি মেকি সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে।
জানা গেছে, ‘চার ছক্কা হৈ হৈ’ গানটি সুর করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী ফুয়াদ আল মুক্তাদির। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন পান্থ কানাই, কনা, এলিটা, জোহান, শান্ত, পূজা ও তাপস। গানের কথা লিখেছেন অনম বিশ্বাস ও রেফায়াত আহমেদ। আর এটি হিন্দি সিনেমা ‘ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো’ ছবির ‘ধাতিং নাচ’ গানটি থেকে নকল করা হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আবু সাদাত মো. জাবের তার স্ট্যাটাসে লিখেন, ”আজকে প্রথম আলোতে আইসিসি টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ থিম সং নিয়ে সেই রিমিক্স ম্যানের বিশাল এক সাক্ষাৎকার ছেপেছে। হাঁ তুমি ক্রেডিট নিতে পারতে ভাই, যদি না খেতে ধরা চুরি করে হিন্দি গানের থিম। কমেন্ট বক্সে প্রথম কমেন্টে সেই হিন্দি গান এবং দ্বিতীয় কমেন্টে তথাকথিত টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ থিম সং এর লিংক দেওয়া হলো। যারা সামান্যতম সঙ্গীতের সং বুঝে থাকেন, তাঁরা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন বাগদাদের চোর, আর বাংলাদেশের চোর এক জিনিস নয়!!
বাগদাদের চোর ধরা পড়ে না, কিন্তু চিহ্ন রেখে যায়। বাংলাদেশের চোর ধরা তো পরেই সাথে দলবলসহ ক্র্যাশও খায়।”
মোহাম্মদ সিরাজুম মুনির লিখেন, ”মিউজিক ভিডিওটা দেখে মনে হল যে আমাদের সত্যি শিক্ষা হয়নি। যেখানে গুন্ডে ছবি নিয়ে এতো সমালোচনার ঝড়। সেখানে আমরা এরকম একটা মিউজিক ভিডিও কিভাবে বানাই? গানের ভিডিওর শুরু দেখেই মনে হয় এটা কোনো আমেরিকান রক ব্যান্ডের গানের ভিডিও। শুধু তাই নয়, ভিডিওর কোথাও ক্রিকেট ব্যাট-বল,মাঠ-পিচ, গ্যালারি নাই। গানের সাথে মিউজিক ভিডিওটা মানানসই হয়নি।
গানটা যেমন বাংলায় গাওয়া হয়েছে, তেমনি ভিডিওতেও বাঙালি এবং বাংলাদেশি সংস্কৃতি তুলে ধরলে ভালো হত। গানটা যেহেতু টি-২০ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সং, তাই শুধু বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকার জার্সি না দেখিয়ে বরং যেসব দেশ অংশগ্রহণ করবে সবারই দলীয় জার্সি দেখানো উচিত ছিল।”
তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে বেশিরভাগ মেয়ে ল্যাগিন্স, স্লিভলেস টি শার্ট ইত্যাদি পরে ঘুরে বেড়ায় না, বা নাচগুলোও বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে যায় না। বরং নৌকায় বর-বউ, ধান ক্ষেতে কৃষক এ রকম দৃশ্য বা শাড়ি পরে নাচ ইত্যাদি বেশি তুলে ধরা উচিৎ ছিল। আর একটাই যদি গান হয়, তাহলে সেখানে সব দেশকেই তুলে ধরা উচিৎ ছিল, আর তা না হলে সম্পূর্ণভাবে দেশীয় সংস্কৃতি তুলে ধরা উচিৎ ছিল। টি শার্ট আর প্যান্ট পড়লেই স্মার্ট কিংবা আন্তর্জাতিক হওয়া যায় না। ভারতের অনেক কিছুই আমাদের পছন্দ হয় না, কিন্তু ওদের ওখানে এরকম কোনো আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্টে নিজের দেশের সংস্কৃতিকে সবার আগে তুলে ধরে। এটাই একটা সুযোগ বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের নিজস্ব স্বতন্ত্র সংস্কৃতি তুলে ধরা।”
এ বিষয়ে গানটির কণ্ঠশিল্পী এলিটা গণমাধ্যমকে বলেন, “গানটি নকল করা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। গানটিতে আমি শুধু কন্ঠ দিয়েছি। বাকি সব বিষয় ফুয়াদ ভাই জানেন।” তিনি আরো বলেন, “আমি ফাটা পোস্টার নিকলা হিরোর গানটি কখনোই শুনিনি বা ভিডিওটি দেখিনি।”
এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার বিকেলে গণমাধ্যম কর্মিরা ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সাথে তার মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।

