কাপাসিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসায় জালসনদে শিক্ষকতা 

প্রকাশিত: April 8, 2026 | সময়: 9:16 pm

স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুর: একজন গৃহবধূ বেকারত্ব দূর করার জন্য হন্নে হয়ে বিভিন্ন স্থানে কর্মসংস্থানের জন্য চাকুরি খোঁজেন| উপায়ান্তে কাপাসিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসায় আইসিটি বিভাগে একটি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় চাকুরির করার সুযোগ রয়েছে| এ কথা শুনে, ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল হকের সাথে শিক্ষক নিয়োগে রফাদফা হয় ওই গৃহবধূ ইসমেতারা ও তাঁর স্বামী নাজমূল হকের সাথে| চুক্তি হয় আট লাখ টাকা| বিনিময়ে জালসনদ তৈরি থেকে শূন্য পদে নিয়োগ ও পরবর্তী এমপিওভুক্ত পর্যন্ত| চুক্তি অনুযায়ী অধ্যক্ষও তাঁর কথা রেখেছেন| ০১/০১/২০২৩ খ্রিস্টাব্দে এমপিওভুক্ত (যার ইনডেক্স নং-M0076681 ) করেন এবং সর্বশেষ গত মার্চ-২৬ পবিত্র ঈদুল ফিতরের বেতন-বোনাস উত্তোলন করেন সহকারী শিক্ষিকা ইসমেতারা|
সবকিছুই ভালো চলছিল; কোথায়ও কোন সমস্যা হয়নি| কিন্তু এ শিক্ষক নিয়োগের অনিয়মের তথ্য ফাঁস হয় অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল হক অবসরে যাওয়ার পরে এ বিষয় নিয়ে জল গড়ায় বহুদূর; গত ৩১ মার্চে এ নিয়ে এনটিআরসিএ-তে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়| শুনানিতে, অধ্যক্ষ জহিরুল হক গেলেও শিক্ষিকা থেকেছেন আড়ালে|
ইসমেতারা এ নিয়োগে অন্যান্যদের মধ্যে সহযোগিতা করেছেন তৎকালীন মাদরাসার সভাপতি ডাঃ আব্দুল কাদের, সাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম|
সহকারী শিক্ষিকা ইসমেতারা সেলফোনে এ বিষয়ে বলেন, করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে বেকার ছিলাম| বেকারত্ব দূর করতে বিভিন্ন জায়গায় হন্নে হয়ে ঘুরেছি| কোথায় চাকুরি পাইনি| অবশেষে লোক মাধ্যমে জানলাম, কাপাসিয়া সিনিয়র আলিম মাদরাসায় আইসিটি বিভাগে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে| কিন্তু আইসিটি সার্টিফিকেট ও এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন নেই আমার| তারপরও অধ্যক্ষের সাথে দেখা করি| তিনি দায়িত্ব নেন, সকল বিষয়ে সমাধান করে এমপিওভুক্ত করাবেন| চুক্তি হয় আট লাখ টাকায়| কথা মতো যথারীতি নিয়োগ পাই এবং এমপিওভুক্তও হই| শুধু এখানেই শেষ হয়নি| অধ্যক্ষ সাহেব অবসরে যাওয়ার পরও বিভিন্ন জনকে টাকা দিতে হয়েছে| কারণ তাঁরা গোপন তথ্য ফাঁস করে দিবে বলে ভয় দেখাতো| এখন শুনছি, সরকারের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে| অপরদিকে আমার দেয়া আট লাখের কী হবে! এ সব বিষয়ে চিন্তা করতে করতে আমি এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছি| আমাকে আর বিরক্ত করবেন না| প্লিজ!
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল হককে সেলফোনে জানতে চাইলে, তিনি জালসনদের বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি|
সাবেক সভাপতি ডাঃ আব্দুল কাদের এ বিষয়ে বলেন, জালসনদ দেখার দায়িত্ব আমার না; ফর্মালিটি অনুযায়ী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ কার্যক্রমে স্বাক্ষর দিতে হয়, দিয়েছি|
সাবেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা এবং আমার কোন সহযোগিতাও ছিল না|
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাঃ সাইদুর রহমান বলেন, এনটিআরসিএ- তে আমাদের ডাকাইছিল, সেখান থেকে এ বিষয়ে যাচাই বাছাই করে বলেছেন, আইসিটি সনদটি জাল এবং যে স্মারকে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে; সে স্মারকটি ভুয়া|