মোঃ আশিক মোল্যা
বিশেষ প্রতিনিধি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মুফতি নাসির উদ্দিন খান এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন ও কর্মসংস্থান নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি তিনি আমাদের প্রতিনিধির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো—
প্রশ্ন: আপনার পরিচয় ও শিক্ষাজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।
আলহাজ্ব মুফতি নাসির উদ্দিন খান:
আমার পিতা মরহুম মোঃ সিরাজুল ইসলাম খান এবং মাতা মরহুমা মোসাঃ আয়েশা আক্তার। আমার বাড়ি গাজীপুর সদর উপজেলার কালনী (খান বাড়ি) গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ছিল।
আমি দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করি ২০০৩—০৪ সালে জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ, মিরপুর, ঢাকা থেকে। পরবর্তীতে একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০০৪—০৫ সালে ইফ্তা (মুফতি) সম্পন্ন করি।
এছাড়াও ২০০১ সালে আজমতপুর দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল, ২০০৩ সালে কালনী ইসলামীয়া সিনিয়র মাদরাসা থেকে আলিম, ২০০৫ সালে জাঙ্গালীয়া ফাজিল মাদরাসা থেকে ফাজিল, ২০০৮ সালে রহমানিয়া কামিল মাদরাসা, ভাগনাহাটি, শ্রীপুর থেকে কামিল এবং ২০০৯ সালে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছি।
প্রশ্ন: রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কীভাবে যুক্ত হলেন?
আলহাজ্ব মুফতি নাসির উদ্দিন খান:
ছাত্রজীবন থেকেই সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে আমি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ—এর কেন্দ্রীয় সহ—সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গাজীপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। মানুষের অধিকার আদায় ও সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই রাজনৈতিক অঙ্গনে পথচলা।
প্রশ্ন: আপনার নির্বাচনী অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন?
আলহাজ্ব মুফতি নাসির উদ্দিন খান:
আমি ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারির বাতিল হওয়া জাতীয় নির্বাচনে গাজীপুর—২ আসনে প্রার্থী হয়েছিলাম। পরে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। এছাড়া ২০১৫ সালে গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজ সেন্টারে বিজয়ী হই এবং সর্বমোট ভোটের হিসেবে তৃতীয় স্থান অর্জন করি। এসব অভিজ্ঞতা আমাকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।
প্রশ্ন: আসন্ন বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার কারণ কী?
আলহাজ্ব মুফতি নাসির উদ্দিন খান:
আমি বিশ্বাস করি, জনগণের সেবা করাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখ—দুঃখের সঙ্গে জড়িয়ে আছি। তাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও একটি আধুনিক, সুন্দর ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্য নিয়েই চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছি।
প্রশ্ন: চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন?
আলহাজ্ব মুফতি নাসির উদ্দিন খান:
সবার আগে এলাকার ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন করবো। রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও যোগাযোগ খাতকে আধুনিক করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। পাশাপাশি শিক্ষার আলো প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে কাজ করবো। যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো।
এছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত বরাদ্দের বাইরে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আমার সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত বরাদ্দ এনে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন করবো, ইনশাআল্লাহ।
প্রশ্ন: ইউনিয়নবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?
আলহাজ্ব মুফতি নাসির উদ্দিন খান:
আমি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চাই। দল—মত নির্বিশেষে সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক, শিক্ষিত, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত ইউনিয়ন গড়তে চাই। এজন্য ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করছি।

