জাকারিয়া হোসাইন
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৩৫/১ পোল্ডারের উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ওপর নির্মিত কাঁচা সড়কগুলো বছরের পর বছর সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব সড়ক কাদায় পরিণত হয়ে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বলেশ্বর নদী তীরবর্তী সাউথখালী ইউনিয়নের সোনাতলা, গাবতলা, বগীসহ শরণখোলার বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন এই বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, জেলে, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হন। হাঁটুসমান কাদার কারণে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রায়ই ছোট—বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল—কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বর্ষা এলেই এ অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
অন্যদিকে, বলেশ্বর নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে ১ নং সোনাতলা ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধের বাইরে ভোলা নদীর উপকূলবর্তী লপ্তচরে আশ্রয় নিয়েছেন অসংখ্য ভূমিহীন পরিবার। সেখানে বসবাসকারী প্রতিবন্ধী, হতদরিদ্র ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সামান্য ঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা জোয়ারের পানিতেই তাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানি নেমে গেলেও হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয় তাদের।
সোমবার (৩ আগস্ট) স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই বেড়িবাঁধ শুধু চলাচলের পথ নয়, এটি উপকূলের মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার অন্যতম ভরসা। ঝড়—বন্যা থেকে রক্ষা পেলেও বছরের পর বছর কাদাময় সড়কের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলছে না। বারবার আশ্বাস মিললেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, ৩৫/১ পোল্ডারের কাঁচা সড়কগুলো দ্রুত টেকসইভাবে পাকাকরণ করতে হবে। পাশাপাশি লপ্তচর এলাকায় নতুন করে টেকসই সড়ক ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, উপকূলীয় এই জনপদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

