গাজীপুরে বাঙ্গালগাছ এলাকার ১০ বছরের শিশুকে তুচ্ছ ঘটনায় মারধর, গুরুতর আহত, আসামির হুমকি

প্রকাশিত: August 22, 2026 | সময়: 1:55 pm

স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুর মহানগরের ৩০নং ওয়ার্ডের বাঙ্গালগাছ এলাকায় এক তুচ্ছ ঘটনায় ১০ বছরের এক শিশুকে মারধর, শ্বাসরোধ এবং মুখের চোয়ালের হাড়ের জয়েন্ট স্থানচ্যুত হয়ে গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। গত ২ আগস্ট বিকালে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় শিশুটির মা কল্পনা আক্তার (৩০) গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) সদর থানায় একটি মামলা (নং— ১০/৪৩৭, তারিখ— ০৬/০৮/২৬) দায়ের করেছেন।

প্রথমে শিশু রেদুয়ান ইসলাম তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগস্ট ২০২৬ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রেদুয়ান ইসলাম (১০) বাড়ি থেকে বের হয়ে তার বন্ধু শিমুলের (১২) সঙ্গে খেলতে যায়। তারা অভিযুক্ত মোখলেছের বাড়ির সংলগ্ন একটি ফাঁকা মাঠে থাকা খড়ের পালার ওপর উঠে বিষয়টি খড়ের পালার মালিক মোখলেছ (৪৫) বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে গিয়ে দুই শিশুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে রেদুয়ানকে হত্যার হুমকি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। শিশুটির মাথা, দুই গালসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে চর—থাপ্পড় ও কিল—ঘুষি মারে। মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি রেদুয়ানের গলা চেপে ধরেন এবং হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাম গালে একাধিকবার চর ও ঘুষি মারেন। এতে শিশুটির মুখের বাম চোয়ালের হাড়ের জয়েন্ট স্থানচ্যুত হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশুটিকে ঘাড় ধরে খড়ের পালার ভেতরে তার মাথা ঢুকিয়ে দেন এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় রেদুয়ান ও তার সঙ্গে থাকা বন্ধু শিমুল চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কল্পনা আক্তার ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ছেলে রেদুয়ানকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

অভিযোগকারী জানান, বর্তমানে রেদুয়ানের মাথা ও বাম গাল ফুলে রয়েছে। মুখের চোয়ালে গুরুতর আঘাতের কারণে সে স্বাভাবিকভাবে মুখ খুলতে পারছে না, তরল জাতীয় খাবার খেতে হচ্ছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোখলেছকে থানাপুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন ভাবে ভয়—ভীতি ও হুমকি প্রদান করে বলে বাদীর অভিযোগ।