কাপাসিয়ায় হান্নান শাহ্’র দশম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত: September 27, 2026 | সময়: 8:31 pm

আকরাম হোসেন রিপন
স্টাফ রিপোর্টার:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার (অব:) আ স ম হান্নান শাহ্’র দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঘাগুটিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি আঙ্গিনায় মিলাদ মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাদ আছর অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

মিলাদ ও দোয়া পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান।

অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি, নাট্যকার অধ্যাপক আবু মহম্মদ রইস, কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর একেএম মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ খলিলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল করিম বেপারী, জেলা বিএনপি নেতা আফজাল হোসাইন, বিএনপির সিনিয়র নেতা এম এ হাসেম চৌধুরী, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য এফ এম কামাল হোসেন প্রমুখ।

এছাড়া উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, ওলামা দল সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবঃ আ স ম হান্নান শাহ্ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন উপজেলা ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোমিনুল ইসলাম।

হান্নান শাহ্ ১৯৪১ সালের ১১ অক্টোবর গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের ঘাগটিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি ৭৪ বছর বয়সে গত ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসায় অসুস্থ্য হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ১১ সেপ্টেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরের র‌্যাফেলস্ হার্ট সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে তার হৃদযন্ত্রের অস্ত্রপাচার করা হয়। দীর্ঘ ২১ দিন জীবন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ওই হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

হান্নানশাহর পিতা ফকির আব্দুল মান্নান ছিলেন পাকিস্তান আমলের মন্ত্রী ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। ১৯৫৬ সালে ঢাকার সেন্টগ্রেগরি স্কুল থেকে মেট্রোকোলেশন পাস এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ১৯৬০ সালে বিএসসি অধ্যয়ণকালে পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ১৯৬২ সালে সামরিক একাডেমি কাকুল থেকে কমিশন প্রাপ্ত হন। ১৯৮৩ সালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে থাকাকালীন সময়ে এরশাদ সরকার বাধ্যতামূলক তাকে অবসর প্রদান করেন।

হান্নান শাহ্ বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কপোর্রেশনের (বিএডিসি) চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি বিএনপির ঢাকা বিভাগিয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন। পরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মনোনীত হন। ১৯৯১ সালে গাজীপুরÑ৪, কাপাসিয়া থেকে সংসদ সদস্য নিবার্চিত হন এবং পাট মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তৎকালীন বহুল আলোচিত ফখরুদ্দিন-মঈন উদ্দিনের সেনা সমর্থীত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গণতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ডের বিরোদ্ধে সর্ব প্রথম মূখ খোলে কথা বলেছিলেন। তখন খালেদা জিয়াকে দেশ ত্যাগ ও শেখ হাসিনাকে দেশে আসতে না দেয়ার ভূমিকার ব্যাপক সমালোচনা করেন। গণমাধ্যমে তখন সরকারের সমালোচনার কারনে বার বার হান্নান শাহ’কে জেলে যেতে হয়েছে। দলের এ ক্রান্তিকালে সক্রিয় ভূমিকার কারনে তাকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত করেন।

হান্নান শাহ্ ছিলেন কাপাসিয়া বিএনপির নেতা-কমীর্দের অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষের আপনজন এবং কাপাসিয়ার উন্নয়নের রূপকার। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এলাকার স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদরাসা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়নে তার বিশেষ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে স্থানীয় শীতলক্ষ্যা নদীর উপর তার নির্মিত ‘ফকির মজনু শাহ্ সেতু স্মরণীয় হয়ে থাকবে।