ডেঙ্গু প্রতিরোধে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলে পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম

প্রকাশিত: October 3, 2026 | সময়: 6:49 pm

স্টাফ রিপোর্টার:
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও এডিস মশার বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গাজীপুরের টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের উদ্যোগে শনিবার (০৩ অক্টোবর) সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত ব্যাপক পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

‘ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দূরীকরণে অফিস প্রাঙ্গণ ও নিজ বাসগৃহের পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে অফিস প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা ময়লা—আবর্জনা, পানি জমার স্থান এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে কার্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিনের জমে থাকা আবর্জনা ও অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি কোথাও যেন বৃষ্টির পানি বা অন্যান্য কারণে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হয়।

এ সময় কর্মকর্তা—কর্মচারীদের নিজ নিজ বাসগৃহ, বাসার আশপাশ ও কর্মস্থলের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতন করা হয়। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম, টায়ার, নির্মাণসামগ্রী কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারেÑএমন সম্ভাব্য স্থান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো অলিউল্লাহ, নাজির আসাদ ও কাউসার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর পৌর ভূমির ভূমি সহকারী কর্মকর্তা লুৎফর রহমানসহ টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের কর্মকর্তা—কর্মচারীবৃন্দ।

কর্মসূচি চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ডেঙ্গু একটি জনস্বাস্থ্য—সংশ্লিষ্ট সমস্যা। এ রোগ প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে বাড়ি, অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়া এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা জরুরি।

তারা আরও বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এজন্য নিয়মিত পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠান-সব পর্যায়েই সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

কর্মকর্তারা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে একদিনের পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম যথেষ্ট নয়; বরং এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। নিজ বাসগৃহের পাশাপাশি কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের এ উদ্যোগকে সংশ্লিষ্টরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত এবং কর্মকর্তা—কর্মচারীদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে নিয়মিত পরিষ্কার—পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।